এই বিজ্ঞাপনের যুগে প্রথমেই আপনাকে বুঝে নিতে হবে আপনার ভোক্তা বা কাস্টোমার কারা ? ধরুন আপনি মিষ্টির ব্যবসা করবেন, কিন্তু আপনি যদি শুধু মাত্র ডায়াবেটিস রোগীদের কাছে আপনার বিজ্ঞাপনদেন তাহলে তেমন একটা ফলপ্রসূ কিছু হবে না সেখান থেকে।

আবার একই ভাবে আপনি যদি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তৈরি বিশেষ মিষ্টি তৈরি করে থাকেন তাহলে আপনাকে এমন ভাবে বিজ্ঞাপন সেট করতে হবে যেন শুধুমাত্র ডায়াবেটিস রোগীদের কাছেই এই বিজ্ঞাপন পৌঁছে যায়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, আপনার ভোক্তা কারা সেটা বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের প্রথম ধাপ।

আর ফেসবুকে কেন বিজ্ঞাপন দিব? সেই উত্তর আমরা ইতোমধ্যেই দিয়েছি, প্রতিনিয়ত প্রসার হতে থাকা এই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেয়ার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই নিজের ব্যবসার প্রসার করতে পারবেন।

ইতোমধ্যেই আমরা জেনেছি কীভাবে ফেসবুক এডম্যানেজার একাউন্টসেট করে এবং একটি সাধারণ ফেসবুক এড কীভাবে দেয়। এমনকি এই সিরিজের বিগতপর্ব গুলোতে আমরা আরো দেখেছি কীভাবে আপনার বিজ্ঞাপনে ছবি এবং লেখা ব্যবহার করে সেটা আরো আকর্ষণীয় করে ফেলা যায়। আজ এই পর্বে আমরা দেখব ফেসবুক বিজ্ঞাপনের সময় কীভাবে অডিয়েন্স বুঝে তাদের টার্গেট করে বিজ্ঞাপন দিতে হয়।

বর্তমান সময়ে যে মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি এর মাধ্যমে সবাই অনেক বেশি সফলতা পাচ্ছে, এই অডিয়েন্স টার্গেটিং তার মধ্যে অন্যতম।

কীভাবে ফেসবুক অডিয়েন্স তৈরি করে নিতে হয়

আগেই একটু বলেনেই এগুলো ফেসবুক বিজ্ঞাপনের কিছু এডভান্সফিচার এবং এগুলো শেখার মাধ্যমেই আপনি একজন সফল মার্কেটার হয়ে উঠতে পারবেন। এমনকি আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে অনলাইনে আয় ও করতে পারবেন।

ফেসবুক টার্গেট অডিয়েন্স তৈরি করার জন্য আপনাকে প্রথমেই অডিয়েন্স ম্যানেজার টুলস ব্যবহার করতে হবে। এটা পাবেন আপনি বিজনেস ম্যানেজার একাউন্টের উপরের ডান সাইডের মেন্যু থেকে।

এখানে আপনি আগে যদি কোন অডিয়েন্স তৈরি করে থাকেন তাহলে সেগুলোও দেখতে পাবেন। এমনকি নতুন অডিয়েন্স ও তৈরি করতে পারবেন। আসুন তাহলে একদম শুরু থেকেই শুরু করা যাক।

ফেসবুকে একদম ব্যাসিক তিন ধরণের অডিয়েন্স রয়েছেঃ

** সেভ করা অডিয়েন্স

** কাস্টোম অডিয়েন্স

** একই রকম দেখতে ভিন্ন অডিয়েন্স

প্রত্যেকটি অপশনের সাথেই আপনি এডিট করার জন্য অন্যান্য আরো অনেক অপশন পেয়ে যাবেন।

ফেসবুক সেভ অডিয়েন্স (Facebook Saved Audiences)

সেভড অডিয়েন্স হল এমন অডিয়েন্স যেটা ফেসবুক মানুষের ইন্টারেস্ট, লোকেশন, লিঙ্গ, মোবাইল অথবা পিসি ইউজার ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করেই বের করে থাকে। আপনি ফেসবুক বিজ্ঞাপন প্রদান করতে গেলেও অডিয়েন্স সিলেক্ট করার অপশন খুঁজে পাবেন অথবা আপনি আগে থেকেই ফেসবুক অডিয়েন্স ম্যানেজারে সিলেক্ট করে রাখতে পারেন।

লোকেশন অনুযায়ী অডিয়েন্স টার্গেট করা

ফেসবুক আপনাকে লোকেশন অনুযায়ী মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছে দেয়ার সুযোগ সুবিধাদেয়। যেমন ধরেন আপনি চাইলেই শুধুমাত্র খুলনাবাসীর কাছে অথবা ঢাকা এলাকাবাসীর কাছে আপনি বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে পারবেন। যে ক্যাটাগরিতে আপনি টার্গেট করতে পারবেনঃ

** দেশ

** এলাকা

** বিশেষ এলাকা

** শহর

** পোস্টাল কোড

** সুনির্দিষ্ট একটি এরিয়া

এর জন্য আপনি লোকেশনের মধ্যে আপনার নির্দিষ্ট এলাকার নাম লিখে নিন।

এই অপশনের মধ্যে আপনি খুবই চমৎকার ভাবে অডিয়েন্স টার্গেট করতে পারবেন। কেননাঃ

** এই লোকেশনের মধ্যে থাকা সবার কাছে এই বিজ্ঞাপন পৌঁছে যাবে। যারা এমনকি এই লোকেশনে কোন কারনে এসেছে তাদের কাছেও যাবে।

** যারা এই লোকেশনে আগে থেকেই বসবাস করছে তাদের কাছে যাবে।

** এমনকি যে মানুষরা প্রায়শই এই এলাকায় যায় তাদের কাছেও পৌঁছাতে পারে এই বিজ্ঞাপন

ডেমোগ্রাফিক টার্গেট-বয়স, নারী-পুরুষ এবং ভাষা

এই অংশে আপনি তিনটি অপশন পাবেন, আর সেই তিনটি অপশন আশা করি হেডলাইন থেকেই বুঝতে পেরেছেন।

বয়সঃ বয়স অনুযায়ী বিজ্ঞাপন দেয়া খুবই জরুরী। কেননা একেক বয়সের মানুষের কাছে একেক ধরণের জিনিস পছন্দ হয়ে থাকে। যেমন ধরুন আপনার যদি বাইকের ব্যবসা থাকে তাহলে বুঝতেই পারছেন ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করলে আপনার বিজ্ঞাপনটি অনেক বেশি ফলপ্রসূ হয়ে উঠবে।

লিঙ্গঃ নারী অথবা পুরুষ ভেদেও আপনি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারবেন। এতে করে মেয়েদের জামা আপনি মেয়েদের কাছে এবং পুরুষদের জামা পুরুষদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।

ভাষাঃ এমনকি আপনি বিশেষ ভাষাভাষী লোকেদের কাছেও বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে পারবেন।

তবে আপনি চাইলে আরেকটু বিস্তারিত টার্গেট করতে পারবেন। যেমন অডিয়েন্স কি বিবাহিত না অবিবাহিত, চাকুরীজীবী নাকি বেকার ইত্যাদি ভেদে আপনি টার্গেট করতে পারবেন।

ইন্টারেস্ট অনুযায়ী অডিয়েন্স টার্গেট করা

ফেসবুকের এই ফিচারটি বিশেষ করে খুবই কার্যকরী এবং চমৎকার। ইন্টারেস্ট অনুযায়ী আপনি খুব সহজেই সঠিক কাস্টোমার খুঁজে বের করে ফেলতে পারবেন। যেমন ধরুন আপনি ইলেকট্রিক গ্যাজেট নিয়ে ব্যবসাক রছেন এবং এই ধরণের গ্যাজেট নিয়ে ইন্টারেস্ট আছে এমন মানুষের কাছে যদি আপনি নিজের বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে পারেন তাহলে বিক্রয় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

ঠিক একই ভাবে আপনার যদি জানা কাপড়ের ব্যবসা থাকে তাহলে আপনি এমন কাস্টোমারদের কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে পারবেন যারা ইতোমধ্যে ফেসবুক থেকে বিভিন্ন জানাকাপড় ক্রয় করেছে।

আচরণ অনুযায়ী টার্গেট অডিয়েন্স

এই অপশনের মাধ্যমে আপনি খুঁজে বের করতে পারবেন কারা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পেজ থেকে এই ধরণের অন্যান্য আরো পন্য ক্রয় করেছে। এই ধরণের তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন দেয়াকে আদতে ডাটাড্রিভেন মার্কেটিং বলা হয়।

আর বর্তমান এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর যুগে আপনি যতবেশি ডাটা নির্ভর বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন ততই আপনার ব্যবসার প্রচার এবং প্রসার হওয়ার সম্ভাবনা বহু গুণে বৃদ্ধি পায়।

ফেসবুক কাস্টোম অডিয়েন্স

বর্তমানে এই কাস্টোম অডিয়েন্সের মাধ্যমে ফেসবুক বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাটা অনেক এডভান্স এক টিফিচার। কেননা এমনকি আপনি চাইলেই মেইলের মাধ্যমে এখান থেকেই বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। এছাড়াও আপনার ওয়েবসাইটে আগে যারা ইতোমধ্যে ভিজিট করেছে তাদের কাছেও আপনি নিজের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারবেন।

এই ধরণের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি অনেক বেশি সহজ হয়ে উঠে। কেননা ইতোমধ্যেই যারা আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করেছে তারা নিশ্চয়ই আকর্ষণ বোধ করেছেন দেখেই আপনার সাইটে ভিজিট করেছে।

তাদের কাছে যদি আরো নতুন আকর্ষণীয় কিছু পৌঁছে দেয়া যায় তাহলে পুরো বিষয়টি আরো চমৎকার এবং কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।

কাস্টোমার ফাইল থেকে কাস্টোম অডিয়েন্স তৈরি করে বিজ্ঞাপন

এখানে আদতে আপনার যদি কোন কাস্টোমার ফাইল তৈরি করা থাকে তাহলে সেই অনুযায়ী বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাকে বুঝায়। যেমন ধরুন আপনার কাছে ইমেইল লিস্ট অথবা ফোন নাম্বার রয়েছে। আর আপনি চাইলেই সেই অনুযায়ী নিজের বিজ্ঞাপন তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন।

কাস্টোক অডিয়েন্স তৈরি করতে চাইলে নিচের এই পদ্ধতি অনুসরণ করুনঃ

১। ফেসবুক কাস্টোম অডিয়েন্স তৈরি করুন

২। কাস্টোমার ফাইল অপশন থেকে সিলেক্ট করুন

৩। আপনি যদি মেইল চিম্প থেকে ইমেইল ইমপোর্ট করতে চান তাহলে সেটা করে নিন।

৪। কাস্টোমার ডাটা ইম্পোর্ট করে নতুন কাস্টোম অডিয়েন্স তৈরি করুন

৫। যে যে আইডিন্টিফায়ারের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে চান সেগুলো সিলেক্ট করুন

৬। কাস্টোমার ফাইল আপলোড করুন

৭। আপনার কাস্টোম অডিয়েন্সের একটি নাম দিয়ে নিন যাতে পরবর্তীতে সহজেই বুঝতে পারেন

কাস্টোম অডিয়েন্সের জন্য অনেক গুলো আইডিন্টিফায়ার রয়েছে তার মধ্যে সব চাইতে জনপ্রিয় হলঃ

** ইমেইল

** মোবাইল নাম্বার

** মোবাইল আইডি (এপলআইডি, এন্ড্রয়েড আইডি ইত্যাদি)

আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক অনুযায়ী কাস্টোম অডিয়েন্স তৈরি করে নিন

আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে এবং সেখানে প্রতিনিয়তই কিছু মানুষ ভিজিট করে থাকে তাহলে সেই মানুষদের কাছে আপনি নিজের পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারবেন। ফেসবুক পিক্সেলের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের তথ্যাবলি আলাদা করে রেখে দিতে পারবেন।

মনে রাখবেন এই অডিয়েন্স আপনার জন্য সব চাইতে দামী অডিয়েন্স। কেননা তারা ইতোমধ্যেই আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করেছে। আর তাদের কাছে যদি আপনি কোন আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনদেন তাহলে সেটা অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হয়ে উঠবে।

আপনি যখন ফেসবুক পিক্সেল সেট করে নিবেন তখন আপনি খুব সহজেই ফেসবুক অডিয়েন্স ম্যানেজার থেকে সেই ডাটা গুলোর মাধ্যমে ভিজিটরদের কাছে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন।

এখানে আপনি বেশ কয়েকটি অপশন পাবেনঃ

** আপনার ওয়েবসাইটে যারা ভিজিট করছে তাদের সবার কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে পারবেন

** নির্দিষ্ট কোন একটি ওয়েবপেজে যারা ভিজিট করছে তাদের কাছে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন

** এমন কি যারা আপনার ওয়েবসাইটে শুধু একটি পেজ ছাড়া অন্যকোন পেজে যায় নি তাদেরকেও আপনি আলাদা করে নিতে পারবেন

** এমনকি যারা আপনার ওয়েবসাইটে খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও এসেছে তাদেরকেও আপনি টার্গেট করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারবেন

এপস একটিভিটির উপর ভিত্তি করে কাস্টোম অডিয়েন্স সেট করা

আপনার যদি ইতোমধ্যেই কোন আইওএস অথবা এন্ড্রয়েড এপস থেকে থাকে তাহলে আপনি সেই কাস্টোমারদের কাছেও নিজের পণ্যের বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে পারবেন। এমনকি আপনার এপসের মধ্যে তারা কি ধরণের আচরণ করছে, কতক্ষন থাকছে এবং বিশেষ করে কোন অংশটিতে বেশি সময় দিচ্ছে এই ধরণের সকল তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে আপনি বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন।

আপনার ফ্যানপেজের এঙ্গেজমেন্ট অনুযায়ী বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারবেন

আপনার যদি কোন ফ্যান পেজ থাকে তাহলে সেখানে অনেকেই হয়ত লাইক কমেন্ট করে থাকে। তবে আপনি কিজানেন যে আপনার ফ্যান পেজে যারা লাইক কমেন্ট করে আপনি চাইলে শুধু মাত্র তাদের কাছেও বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন? ব্যাপারটি খুবই দারুন একটি বিষয় এবং অনেক কার্যকরী। বর্তমান আপডেটের মাধ্যমে আপনি চাইলেই এই ভাবে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। আপনি তাদের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছাতে পারবেন যারাঃ

** আপনার ফ্যান পেজ ভিজিট করেছে

** আপনার পেজের বিভিন্ন পোষ্টে লাইক কমেন্ট করেছে

** কোন একটি কল টু একশন বাটনে ক্লিক করেছে।

** আপনার পেজে মেসেজ দিয়েছে

** আপনার কোন একটি পোষ্ট সেভ করে রেখেছে

সুতরাং বুঝতেই পারছেন ফেসবুক আপনাকে এমন সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে, যার মাধ্যমে আপনি এমন মানুষের কাছে নিজের পণ্যের বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে পারবেন যারা ইতোমধ্যেই আপনার পেজের বিভিন্ন একটিভিটি নিয়ে ইন্টারেস্টেড। এই কাস্টোমাররা যেহেতু ইতোমধ্যেই আপনার পেজের ব্যাপারে আগ্রহী তাই তাদের কাছে নিজের বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে পারলে বিষয়টি অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

একই ধরণের অডিয়েন্স ভিন্ন এলাকায় টার্গেট করা ( Lookalike Audiences)

এই ফিচারের মাধ্যমে আপনি একই ধরণের ইন্টারেস্টের মানুষ ভিন্ন এলাকায় থাকলে তাদের কাছেও বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে পারবেন। যেমন ধরুন আপনি ইলেকট্রিক গ্যাজেট নিয়ে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন।

এখন ঢাকার উপর ভিত্তি করে আপনি একটি কাস্টোম অডিয়েন্স সেট করে নিলেন। এখন আপনি চাইলে সেই একই ধরণের মানুষ যদি খুলনাতে থাকে তাহলে তাদের কাছেও বিজ্ঞাপন পৌঁছে দিতে পারবেন।

কীভাবে আপনি নিজের অডিয়েন্স কার্যকর ভাবে কমিয়ে বিজ্ঞাপন দিবেন

মাঝে মধ্যে দেখবেন যে আপনি একটি বিষয়ে বিজ্ঞাপন দিতে চান কিন্তু সেই বিজ্ঞাপনের অডিয়েন্স লাখো মানুষ। কিন্তু এত জনের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছানোর মত টাকা নেই। তাহলে আপনি যেটা করতে পারেন সেটা হল এই মানুষের সংখ্যা কমিয়ে নিয়ে আসতে পারেন।

ধরুন আপনি হেডফোনের বিজ্ঞাপন দিবেন ঢাকার মধ্যে। তাহলে প্রথমেই ইলেকট্রিক পণ্যে পছন্দ মানুষের সংখ্যা অনেক সেটা বুঝতে পারছেন। তাহলে আপনি বয়স অনুপাতে যদি বিজ্ঞাপনদেন তাহলে মানুষের সংখ্যা কমে আসবে। যেমন আপনি চাচ্ছেন এমন ভাবে বিজ্ঞাপন দিতে যাদের ইলেকট্রিক গ্যাজেটের প্রতি ইন্টারেস্ট আছে এবং বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছর।

আবার আপনি যদি মানুষের সংখ্যা আরো কমাতে চান তাহলে সিলেক্ট করুন যারা ইতোমধ্যেই অনলাইন থেকে বিভিন্ন পন্য ক্রয় করেছে। তাহলে দেখবেন আপনার কাস্টোমার সংখ্যা আরো কমে গেছে। এভাবে করে আপনি সুন্দর করে যদি কার্যকর উপায়ে মানুষের সংখ্যা কমাতে পারেন তাহলে আপনার পন্য বিক্রয়ের সম্ভাবনাও অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়।

এমন কি আপনি চাইলে বিশেষ কোন এক ধরণের মানুষকে বাদও দিয়ে দিতে পারবেন এই বিজ্ঞাপনের আওতা থেকে।

পুরো বিষয়টা আসলে অনুধাবনের এবং প্র্যাকটিসের উপর নির্ভর করছে। তবে আপনার যদি কোন ফেসবুক ফ্যান পেজ না থাকে তাহলে দেখে নিতে পারেন যে কিভাবে আকর্ষণীয় উপায়ে ফ্যানপেজ তৈরি করা যায়। এছাড়া বিজ্ঞাপনে কোন ধরণের ছবি ও লেখা ব্যবহার করবেন সেই সম্পর্কেও জানা থাকলে আপনার জন্য বাড়তি সুবিধা হবে।

আশাকরি আমাদের এই পর্ব থেকে আপনি কাস্টোমার সম্পর্কে একটি বিষদ ধারনা পেয়ে গেলেন। আগামি পর্বে আমরা কথা বলব কার্যকর উপায়ে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের খরচ কীভাবে আরো অনেক বেশি কমিয়ে নিয়ে আসা যায়। ফেসবুক বিডিং এবং অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে আপনি খুব চমৎকার ভাবে আরো কম খরচে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করত পারবেন।

লেখক পরিচিতিঃ
MD.ARIFUR RAHMAN

SEO expert in Bangladesh

Digital Marketing Expert | SEO Expert | Digital Marketing Trainer |
PPC Expert | Social Media Specialist | Consultant । Affiliate Marketer

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Top