পিপিসি ক্লিক ভিত্তিক মার্কেটিং করার সময় আপনার একাউন্টের স্ট্রাকচার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেননা আদতে আপনি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো পণ্য বিক্রয় অথবা কোন সার্ভিস বিক্রয় করতে চাচ্ছেন সেক্ষেত্রে আপনার কিওয়ার্ড, মেসেজ, বিজ্ঞাপনের টেক্সট, এমনকি ল্যান্ডিং পেজ সবকিছুই খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর তাই আপনার একাউন্টটি অনেক গুছানো থাকলে এই পুরো বিষয়টি অনেক সহজেই করে ফেলতে পারবেন।

এড গ্রুপ কি এবং কীভাবে এড গ্রুপের মাধ্যমে পিপিসি বিজ্ঞাপনকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায় এ বিষয়ে জানতে এই ব্লগটি পড়ুন।

আপনি যদি কোডিং নাও জানেন তাহলেও এলিমেন্টর প্রো এর মাধ্যমে খুব সহজে যে কোন ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করে নিতে পারেন। এসম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে আমাদের আর্টিকেলটি দেখতে পারেন।

তবে এর পাশাপাশি আপনার রিপোর্টিং এফিশিয়েন্সি এবং বিজ্ঞাপন অপটিমাইজেশন এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আর এই সবকিছুই একসাথে ঠিক রাখার জন্য আপনাকে অবশ্যই গ্রুপের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রদান করতে হবে। আসুন তাহলে জেনে নেই কিভাবে আপনি এড গ্রুপের মাধ্যমে খুব চমৎকার এবং কার্যকরী ভাবে বিজ্ঞাপন সেটাপ করতে পারবেন।

মূলত এড গ্রুপ হল আপনার বিভিন্ন ক্যাম্পেইনকে আলাদা করে একেকটি গ্রুপের মধ্যে রেখে দেয়া। আপনি এই এড গ্রুপের মধ্যে আপনার রিসার্চ করা বেশ কিছু নির্দিষ্ট কিওয়ার্ডও সেভ করে রাখতে পারবেন। এভাবে আপনি যদি গুছিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে থাকেন তাহলে পরবর্তীতে যে কোন একটি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড কতটা কার্যকরী হয়ে উঠেছে সেটা খুব সহজেই বের করতে পারবেন। আবার কোন কিওয়ার্ডে যদি ইম্প্রেশন ক্লিক কম আসে এবং সেল কম হয় তাহলে সেই কিওয়ার্ডকে আলাদা করে মুছে ফেলতে পারবেন।

ক্যাম্পেইন যেভাবে সেটআপ করবেন

এখানে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো আপনি একেকটি ক্যাম্পেইনের মধ্যে আলাদা আলাদা টার্গেটিং এবং বাজেট সেট করে রাখবেন। এর মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে দেয়া বিজ্ঞানকে আলাদা ভাবে খুব সহজেই ট্র্যাক করতে পারবেন। যেমন ধরুন আপনি হয়ত পিপিসি ক্যাম্পেইন করতে চাচ্ছেন যাতে করে আপনার পণ্য অনেক বেশি বিক্রয় হয়। আবার কখনো আপনি চাইতে পারেন যে বিক্রয় কোন ব্যাপার নয়, শুধুমাত্র মানুষ বেশি করে আপনার পণ্য এবং সার্ভিস সম্পর্কে জানতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার আলাদা উদ্যেশ্য অনুযায়ী বিজ্ঞাপনগুলো সুন্দর ভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন।

এড গ্রুপ কি এবং কীভাবে এড গ্রুপের মাধ্যমে পিপিসি বিজ্ঞাপনকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায় এ বিষয়ে জানতে এই ব্লগটি পড়ুন।

আলাদা ক্যাম্পেইন এর রিপোর্টিং কাজে লাগিয়ে আপনি বিজ্ঞাপনকে আরো আকর্ষণীয় এবং কার্যকর করে তুলতে পারবেন। আর এভাবে ডাটা এবং রিপোর্টিং এর উপর ভিত্তিতে দেয়া বিজ্ঞাপনকে ডাটা ড্রিভেন মার্কেটিং বলা হয়। মূলত বর্তমান ডিজিটাল মার্কেটিং এর যুগে আপনি যাই করছেন না কেন, সেটার রেকর্ড আপনি অনলাইনে রেখে দিচ্ছেন। আর সেই ডাটার মাধ্যমেই গুগুল নির্দিষ্ট করতে পারে কোন ব্যাক্তি কোথায় থাকে, কি করে এবং কার কি রকম বিষয় নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।

এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে সবগুলো মাধ্যম এবং বিজ্ঞাপনের পদ্ধতি সবার জন্য একই রকম ভাবে কাজ করে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ যেটা হল প্রাথমিকভাবে আপনার ইনভেস্টমেন্ট উঠে আসছে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। ধরুন আপনি হাঁটার জন্য তৈরি জুতা বিক্রয় করবেন অনলাইনে আর ফেসবুক বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি পিপিসি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমেও বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে ইচ্ছুক। সেক্ষেত্রে আপনি একজনকে দেখেছেন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে বেশ লাভবান হচ্ছে।

এখন আপনিও সেই একই পদ্ধতি অনুসরন করে বিজ্ঞাপন দিয়ে দেখলেন আপনি তেমন একটা লাভবান হতে পারছেন না। মূলত এর কারণ হল অনলাইনে সবার একই পদ্ধতি কাজ করে না। আর তাই আপনাকে আপনার নিজের ইউনিক সেল পয়েন্ট খুঁজে বের করে নিতে হবে। আর সেই অনুযায়ী বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে হবে।

ডাটা এবং রিপোর্ট এনালাইসিস এর মাধ্যমে আপনি চাইলে নিজের বিজ্ঞাপন এবং ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন তথ্যাবলি সংগ্রহ করতে পারেন। এরজন্য অনেক ধরনের পেইড টুল রয়েছে অনলাইনে। তবে পেইড টুলের পাশাপাশি গুগুলের বেশ কিছু ফ্রি টুল রয়েছে যেগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই এইসব রিপোর্টগুলো এনালাইস করে নিতে পারবেন।  

আপনার বিজ্ঞাপন কোথায় দেখানো প্রয়োজন

সাধারণত সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ রেজাল্টের মধ্যেই প্রথমে বিজ্ঞাপন দেখা না হয়ে থাকে তবে আপনি চাইলে বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক এর সাথে কাজ করে এমন অনেকগুলো প্লাটফর্মে পিপিসি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে  বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারবেন।

এজন্যই শুরু থেকেই ঠিক করে নিতে হবে আপনি ঠিক কোথায় নিজের বিজ্ঞাপনটি দেখাতে চান এটা নির্ভর করে আপনার বিজ্ঞাপনটি কি ধরনের এবং আপনার পণ্য অথবা সার্ভিসটি কি ধরনের সেটার উপর।

এড গ্রুপ কি এবং কীভাবে এড গ্রুপের মাধ্যমে পিপিসি বিজ্ঞাপনকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায় এ বিষয়ে জানতে এই ব্লগটি পড়ুন।

এছাড়াও কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এবং কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট বয়স সীমার মধ্যে আপনি চাইলে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারবেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে আপনি যদি ঢাকার ২৫ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন দিতে চান সেটা আপনি করতে পারবেন।

আর তাই আপনাকে যদি ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে হয় তাহলে আপনি ভিন্ন ভিন্ন এলাকার জন্য আলাদা আলাদা ক্যাম্পেইনে সেটআপ করে নিতে পারবেন। এটা আপনার জন্য পরবর্তীতে ট্রেকিং এবং রিপোর্ট এর উপর এনালাইসিস করতে খুবই উপকারী ভূমিকা রাখবে।

আপনি নিজে যদি একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন এবং অন্য কারো জন্য পিপিসি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করছেন, তাহলে আপনার জন্য পুরো বিষয়টি জেনে নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা আপনি যখন ক্লায়েন্টকে রিপোর্টিং করবেন তখন এভাবে এলাকা ভিত্তিক এবং প্লাটফর্ম ভিত্তিক রিপোর্টিং করতে অনেক বেশি সুবিধা হবে।

যেমন আপনার ক্লায়েন্ট চাচ্ছেন তার কোন ভিডিও এর মাধ্যমে মার্কেটিং করতে। তাহলে আপনি পিপিসি ক্যাম্পেইনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিনের রেজাল্টের মাধ্যমেই বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন তা নয় বরং ইউটিউব সহ অন্যান্য আরো অনেক ওয়েবসাইটে একইসাথে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারবেন।

এড গ্রুপ কি এবং কীভাবে এড গ্রুপের মাধ্যমে পিপিসি বিজ্ঞাপনকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায় এ বিষয়ে জানতে এই ব্লগটি পড়ুন।

যেখানে বিজ্ঞাপন দিলে সবচাইতে লাভবান হবেন সেখানেই বিজ্ঞাপন দিন

আপনি যে কোন বিজ্ঞাপন দেয়ার আগেই প্রথমেই দেখবেন আপনার বিজ্ঞাপন থেকে কীভাবে সবচাইতে লাভবান হতে পারবেন। ঠিক যেখানে আর যেভাবে বিজ্ঞাপন দিলে মনে করবেন আপনার ইনভেস্টমেন্ট উঠে আসবে আপনাকে ঠিক সেখানেই বিজ্ঞাপন দিতে হবে।

এড গ্রুপ কি এবং কীভাবে এড গ্রুপের মাধ্যমে পিপিসি বিজ্ঞাপনকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায় এ বিষয়ে জানতে এই ব্লগটি পড়ুন।

তবে এর মানে কিন্তু এই নয় যে আপনি ইচ্ছেমত অনেকগুলো ক্যাম্পেইন বা এড-গ্রুপ তৈরি করে রাখবেন। আপনি চাইলে একটি এড গ্রুপের মধ্যেই অনেকগুলো ক্যাম্পেইন তৈরি করতে পারবেন। পরবর্তীতে রিপোর্টিং এর উপর ভিত্তি করে আপনার জন্য লাভজনক ক্যাম্পেইনগুলোকে আলাদা করে একটি নির্দিষ্ট এড গ্রুপে নিয়ে আসতে পারবেন।

বেলাশেষে আমরা যারা অনলাইনে কাজ করি অথবা কোন ব্যবসার উদ্যেশ্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকি তারা সবাই চাই যে আমাদের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যাতে করে অনেক বেশি লাভবান হওয়া যায়। আর তাই গুছিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য রিপোর্টিং এনালাইসিস করে বিজ্ঞাপন দেয়া জরুরী। আর গুছিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে সেখান থেকে খুব সহজেই রিপোর্ট সংগ্রহ করার জন্য এড গ্রুপ এবং ক্যাম্পেইন গুছিয়ে তৈরি করতে বেশ কার্যকরী প্রভাব পাওয়া যায়।  

যেভাবে এড গ্রুপ করলে সহজেই ট্র্যাক রাখতে পারবেন

আপনার যদি একাধিক পণ্য অথবা সার্ভিস থাকে এবং সবগুলোকে আলাদা ভাবে রিপোর্টিং এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে চান তাহলে সবগুলো পণ্যের নামে আলাদা এড গ্রুপ তৈরি করে নিতে পারেন। এরপর ক্যাম্পেইনগুলো লোকেশন এবং বয়স অনুসারে আলাদা ভাবে সেটআপ করে নিতে পারেন। এভাবে যদি ক্যাম্পেইন তৈরি করেন তাহলে আপনি খুব সহজেই সেগুলো বিভিন্ন এড গ্রুপের মাধ্যমে ট্র্যাক করতে পারবেন।

কেউ কেউ আবার অডিয়েন্স টার্গেটিং অনুযায়ী আলাদা এড গ্রুপ তৈরি করে রাখেন। অর্থাৎ আপনি যদি চান যে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং খুলনায় একযোগে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবেন, তাহলে প্রত্যেকটি এলাকার জন্য আলাদা করে এড গ্রুপ খুলে রাখতে পারেন। এভাবে একেকটি এলাকার উপর আলাদা রিপোর্টিং তৈরি করে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তীতে বিজ্ঞাপন আরো অপটিমাইজ করতে সাহায্য করবে।

পরিশেষে বলা যেতে পারে আপনি নিজের জন্য বিজ্ঞাপন দেন অথবা ক্লায়েন্ট যার জন্যই বিজ্ঞাপন দেন না কেন, গুছিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়াটা খুবই জরুরী। যে কোন কাজ গোছালো ভাবে করলে সেখান থেকে খুব সহজেই সফলতা অর্জন করা যেতে পারে। আমাদের আজকের এই আর্টিকেল থেকে আশাকরি এড গ্রুপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলেন। আমাদের এই পিপিসি সিরিজের ইতোপূর্বে যে আর্টিকেলগুলো প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো হলঃ

১ম পর্বঃ পিপিসি PPC (Pay per click) কি এবং এই ক্লিক ভিত্তিক সার্চ মার্কেটিং কীভাবে কাজ করে?

২য় পর্বঃ কেন এই পিপিসি PPC (Pay per click) এত গুরুত্বপূর্ণ আর কেনই বা আপনি এই ক্লিক ভিত্তিক সার্চ মার্কেটিং এ ইনভেস্ট করবেন?

৩য় পর্বঃ বিশ্বসেরা যে ৮টি নেটওয়ার্কে পিপিসি বা ক্লিক ভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদান করতে পারবেন

৪র্থ পর্বঃ পিপিসি বা ক্লিক ভিত্তিক বিজ্ঞাপনের প্ল্যান করার সময় যে বিষয়গুলো আপনাকে বিবেচনায় রাখতে হবে (PPC Strategy)

৫ম পর্বঃ পিপিসি ক্যাম্পেইনে Click-Through Rate বা CTR কি এবং কেনই বা এটা এত গুরুত্বপূর্ণ?

৬ষ্ঠ পর্বঃ পিপিসি বা গুগুলের ক্লিক ভিত্তিক বিজ্ঞাপনে কোয়ালিটি স্কোর কীভাবে বৃদ্ধি করবেন?

পিপিসি ক্যাম্পেইন বা ক্লিক ভিত্তিক বিজ্ঞাপনের এই সিরিজের পাশাপাশি ফেসবুক বিজ্ঞাপনের আদ্যপান্ত নিয়ে আমাদের আরো একটি সিরিজ পর্ব আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে আপনি আমদের এই সিরিজটি পড়ে নিতে পারেন।

এছাড়া আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন, তাহলে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বাংলাদেশ সরকার থেকে আইডি প্রদান করা হচ্ছে। কীভাবে সেই আইডি নিতে পারবেন এবং ফ্রিল্যান্সার আইডির সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে আমাদের লেখা আর্টিকেলটি পড়ে দেখতে পারেন।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Top