ব্লগিং টুলস যা আপনার ব্লগকে নিয়ে যেতে পারে সফলতার শীর্ষে

কোন টুল আমরা ফ্রিতে ব্যবহার করব আর কোন অনলাইন ব্লগিং টুল গুলো আমাদের কিনে ব্যবহার করতে হবে তা ব্লগারদের জানা খুব দরকার

আমরা প্রায় শুনে থাকি যে অনেক মানুষ বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। আর বর্তমান এই আধুনিক যুগে এমনটা হওয়াটাই স্বাভাবিক। অনেকেই হয়ত ঠিক এমনটা উপার্জন করতে চাই, কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে আমাদের ইচ্ছেগুলো কখনই সফলতার মুখ দেখে না।

কোন ব্লগিং টুলস আমরা ফ্রিতে ব্যবহার করব আর কোন টুলগুলো আমাদের কিনে ব্যবহার করতে হবে, এই তথ্যটির অনেক হেরফের আছে অনলাইন জগতে। সে বিষয়গুলোকেই একটু সহজ করে তোলার জন্য আজকের এই আয়োজন।

যে অনলাইন ব্লগিং টুলস আপনার আদতেই কিনে নেয়া উচিৎ এবং ব্যবহার করতেই হবে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ টুল নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এই আর্টিকেল।

ব্লগিং টুলস গুলো সম্পর্কে বলার আগেই বলে নেই, দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জগতে বিচরণের কারণে প্রায় সকল অনলাইন টুল আমার ব্যবহার করা হয়েছে।

আর তাই শুধুমাত্র সেরা অনলাইন ব্লগিং টুলস গুলো নিয়েই আজকে আলোচনা করব। আর কথা দিতে পারি, এই ব্লগিং টুলস গুলো একটু সঠিক উপায়ে ব্যবহার কতে পারলেই অনলাইন জগতের সাফল্য নামক সোনার হরিণটি ধরা দিবে আপনার হাতের মুঠোয়।

যে ব্লগিং টুলস গুলো একদম না হলেই নয়ঃ

ব্লগিং টুলস নিয়ে আলোচনার প্রথমেই রাখছি যেগুলো আপনার একদম না হলেই নয়। এই টুলগুলো আমি ব্যক্তিগত ভাবে ব্যবহার করে অনেক উপকৃত হয়েছি আর আপনারাও চাইলে এই অনলাইন ব্লগিং টুলস গুলো ব্যবহার করে খুব দ্রুত এমন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলতে পারবেন যা থেকে আপনার আয় হতে থাকবে একদম নিয়মিতই।

A2Hosting:

আপনার ওয়েবসাইটের জন্য জনপ্রিয় একটি হোস্টিং কোম্পানি । আমার নিজেরই প্রায় দশটার বেশি ওয়েবসাইট এবং ক্লায়েন্ট ও পরিচিত বন্ধু মহলের একশরও বেশি ওয়েবসাইট বর্তমানে এই হোস্টিং কোম্পানিটিতে রয়েছে। এখন যে প্রশ্নটি চলে আসতেই পারে সেটা হল, কেন এই হোস্টিং কোম্পানিটি সেরা?

আপনার একদম নতুন ওয়েবসাইটটি এই হোস্টিং এর মধ্যে খুব সহজেই সেটআপ করে নিতে পারবেন। আর সবচাইতে মজার ব্যাপার হল, মাত্র একটি ক্লিকের মাধ্যমেই আপনার ওয়ার্ডপ্রেসের ব্লগটি এখানে সেটআপ হয়ে যাবে।

এই হোস্টিংটি এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, এই হোস্টিং আপনার ওয়েবসাইটের স্পিড হবে খুবই চমৎকার। আর এমন চমৎকার স্পিড ওয়েবসাইটের পাঠক ধরে রাখার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী।

A2Hosting এ আসার আগে আমি সাইটগ্রাউন্ড নামে আরেকটি চমৎকার হোস্টিং কোম্পানি ব্যবহার করতাম। সেই হোস্টিং কোম্পানিটিও বেশ ভালো ছিল তবে A2Hosting এ চলে আসার একমাত্র কারণ হল এর সাইট স্পিড, যেটা আপনি আর কোন হোস্টিং কোম্পানিতেই পাবেন না।

বর্তমানে হোস্টিং এর জন্য যে দুইটি কোম্পানি বেশ জনপ্রিয় তারমধ্যে একটি হল Siteground এবং অন্যটি হল A2Hosting। দুটি কোম্পানিই তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের সেরা প্রমাণ করে আসছে বিগত বেশ কিছুদিন থেকেই। ব্যক্তিগত আমার বেশি পছন্দ A2Hosting, আর কথা দিচ্ছি এই হোস্টিং কোম্পানিতে আপনার ওয়েবসাইটটি হোস্ট করলে আপনি একদমই হতাশ হবে না।

প্রথমবারের মত কোন ওয়েবসাইট হোস্টিং করতে চলছেন? A2Hosting খুব অল্প দামের মধ্যেই আপনি করে নিতে পারেন আপনার হোস্টিং।

মাত্র মাসিক ৩.৯৫ ডলারেই পাচ্ছেন কোম্পানি থেকে সব ধরেনর সুযোগ সুবিধা। আর এত সুযোগ সুবিধার তুলনায় বলতে গেলে এই মূল্যটি একদম কিছুই না।

এছাড়াও এই মুল্যে আপনি পাচ্ছেন ফ্রি ডোমেইন, ফ্রি এসএসএল সার্টিফিকেট, ফ্রি ডেডিকেটেড আইপি, অন্য যে কোন হোস্টিং থেকে ফ্রি ট্রান্সফার সহ কোম্পানির অসাধারণ একটি কাস্টোমার কেয়ার সার্ভিস।

Siteground:

ওয়েবসাইট এবং ব্লগের জন্য এই হোস্টিং কোম্পানিটিও বর্তমানে শীর্ষ তালিকায় অবস্থান করছে। বিগত প্রায় সাত বছর ধরেই আমার ব্যক্তিগত সব ওয়েবসাইট A2Hosting তে ট্রান্সফার করার আগে আমি Godaddy এবং Bluehost এর বিভিন্ন হোস্টিং কোম্পানির সার্ভিসই ব্যবহার করেছি।

কিন্তু অন্যান্য অনেক হোস্টিং কোম্পানিতেই আমি বিবিধ সমস্যায় পড়েছি, যেগুলো কখনই আমাকে Siteground এর সাথে থাকাকালীন সময়ে ফেস করতে হয়নি।  

অনলাইন ব্লগিং টুলস Siteground

আমি যখন এই হোস্টিং কোম্পানিটিতে আমার ওয়েবসাইটগুলো ট্রান্সফার করে নিয়ে এসেছিলাম তার কিছুদিনের মধ্যেই ওয়েবসাইটগুলোর স্পিড প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। ওয়েবসাইট স্পিড ভালো থাকার কারণে আমার সাইটগুলোতে ভিজিটরের সংখ্যাও প্রায় দেড়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই কোম্পানির হোস্টিং এ চলে আসার পর এই সাফল্য আমাকে বেশ অবাকই করে দিয়েছিল!

এদিকে আপনি যদি একই হোস্টিং এ বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট রেখে ব্যবহার করতে চান তাহলেও এই কোম্পানির “Grow big plan” নামক সুবিধাটি আপনি গ্রহণ করতে পারেন। বর্তমান হোস্টিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে এই হোস্টিং এর দামও বেশ আকর্ষণীয়।

Thrive Themes:

আপনার ওয়েবসাইটটি খুব ভালোভাবে চালাতে চাইলে আপনাকে পেইড থিম ব্যবহার করতে হবে। বিশ্বের সব বড় বড় ব্লগাররাও বিভিন্ন থিম কিনে নিয়েই বর্তমানে সাফল্যে অবস্থান করছেন।

আর তাদের সাথে তাল মিলাতেই এই কোম্পানিটি আপনাকে চমৎকার সব থিমের সাথে সাথে অসাধারণ কিছু প্লাগিনও দিবে।

এইসব প্লাগইনগুলো দিয়ে আপনি খুব সহজেই চমৎকার সব ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করে নিয়ে প্রচুর লিড জেনারেশন করতে নিতে পারবেন। আর এসব কাজ করতে আপনার প্রোগ্রামিংয়ের কোন আইডিয়া না থাকলেও চলবে, কেননা এগুলো সেটআপ করে কাজ করা একদমই সহজ। তবুও কোথাও আটকে গেলে কোম্পানি থেকে পাবেন বেশ কিছু চমৎকার টিউটোরিয়াল।

অনলাইন ব্লগিং টুলস Thrive Themes

অনলাইনে অর্থ উপার্জন করতে চাইলে ল্যান্ডিং পেজ আর লিড জেনারেশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ সে ব্যাপারে আর বলাই বাহুল্য। এই কোম্পানির মেম্বারশিপ গ্রহণ করাটি অনলাইন উপার্জনের জন্য বেশ চমৎকার একটি ইনভেস্টমেন্ট। খুব অল্প মূল্যেই চমৎকার সব থিমে এবং প্লাগইনের সমাহার সমৃদ্ধ অসাধারণ এই মেম্বারশিপে ইনভেস্ট করে আপনি নিজের সাফল্য দেখে নিজেই বেশ অবাক হয়ে যাবেন!

ডোমেইন ক্রয়ের বিষয়ে কিছু গুরত্বপুর্ন কথাঃ

যে কোন ওয়েবসাইট বা ব্লগ তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রথমেই যে ব্যাপারটি উঠে আসে সেটা হল ডোমেইনের নাম। আর আপনি যদি ডোমেইনের নাম এবং হোস্টিংটি একই কোম্পানি থেকে কিনে নিতে পারেন তাহলে প্রাথমিক সময়ে বেশ কিছু জটিলতার সম্মুখীন আপনাকে হতে হবে না। তবে আপনি যদি শুধুমাত্র ডোমেইন কিনতে চান তাহলে নিঃসন্দেহে Namecheap হল সবচাইতে বেশি জনপ্রিয়।

তবে এটি যদি আপনার প্রথম ওয়েবসাইট হয়ে থাকে তাহলে আলাদা আলাদা ডোমেইন আর হোস্টিং না কেনায় শ্রেয়। আর সেক্ষেত্রে আপনি A2hosting থেকেই একসাথে ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে নিতে পারবেন। A2hosting থেকে ডোমেইন এবং হোস্টিং একসাথে কিনে নিলে আপনাকে আর অযথা ডোমেইন ট্রান্সফার নিয়ে জটিলতায় ভুগতে হবে না। যেটা প্রাথমিক অবস্থায় বেশ খানিকটা জটিল মনে হতেই পারে।

ওয়ার্ডপ্রেস থিম এবং প্লাগিনঃ

আপনার সাইটটি যখন তৈরি হয়ে যাবে, অর্থ উপার্জনের জন্য তখন “ইমেইল কালেকশনের জন্য”, কন্টেন্ট আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য, প্রফেশনাল লুক নিয়ে আসার জন্য সহ অন্যান্য আরো বেশ কিছু অনলাইন ব্লগিং টুলস আপনার প্রয়োজন পড়বে।

যদি আপনি Thrive membership নিয়ে নেন তাহলে আপনাকে আর আলাদা করে কোন প্লাগিন কিনে নিতে হবে না। কেননা আপনি ঐ এক মেম্বারশিপের মাধ্যমেই পেয়ে যাবেন চমৎকার সব প্লাগিন। আসুন জেনে নেই Thrive এর চমৎকার কিছু প্লাগিন সম্পর্কে –

Thrive Leads:

অনলাইন ব্লগিং টুলস দ্বারা ইমেইল কালেক্ট করার জন্য জনপ্রিয় এটি একটি প্লাগিন। আমি যখন ব্যক্তিগত ভাবে এই প্লাগিন দিয়ে ইমেইল কালেক্ট করা শুরু করেছি তখন একদম সাথে সাথেই আমার ইমেইল কালেকশন প্রায় ৯৫% বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছিল। অথচ এর আগে আমি বাৎসরিক প্রায় ২০০ ডলারের মত খরচ করতাম শুধুমাত্র এই ইমেইল কালেকশন করার জন্য।

কিন্তু যখন থেকেই আমি মাত্র ৬৭ ডলারের এই প্লাগিনটি ব্যবহার করা শুরু করেছি তখন থেকেই ইমেইল কালেকশনের ক্ষেত্রে আমি ব্যক্তিগত ভাবে বেশ সন্তুষ্ট। আর হ্যাঁ! এই প্লাগিন এর কোন বাৎসরিক চার্জ নেই, মাত্র একবার কিনে নিলেই আপনি সবসময়ের জন্য প্লাগিনটি ব্যবহার করতে পারছেন। 

Thruive Leads ব্লগিং টুলস

এই প্লাগিনটির সুযোগ সুবিধাগুলো দেখলে আপনি একদম অবাক হয়ে যাবেন এই ভেবে যে, এত ফিচার সমৃদ্ধ এই প্লাগিনের মূল্য এত কম কেন? হ্যাঁ, এই প্লাগিনটি এতটাই চমৎকার যা আপনাকে কখনই হতাশ করবে না।

ব্লগ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের জন্য ইমেইল লিস্ট থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এটা মোটামুটি আমরা সবাই জানি। কেননা, কেবলমাত্র এক হাজার জন মানুষের ইমেইলের মাধ্যমেই আপনি দশ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করে ফেলতে পারেন। সেক্ষেত্রে, একবার ভেবে দেখুন আপনার কাছে যখন আরো অনেক বেশি ইমেইল থাকবে তখন আপনার আয়ও ঠিক কতটা বৃদ্ধি পাবে।

Ultimate List-Building Plugin for WordPress

আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই প্লাগিনের মাধ্যমে এত ইমেইল সংগ্রহ করেছি এবং তার থেকে এতটাই আয় করেছি যে মাত্র ৬৭ ডলার সেই তুলনায় একদম কিছুই না।

Thirsty Affiliates:

আর্টিকেলের শুরুতেই বলেছিলাম এই অনলাইন জগতে আমার পথচলা দীর্ঘদিনের। আর এই দীর্ঘ দিনে আমার আয়ের একটা অন্যতম উৎস হল এফিলিয়েট মার্কেটিং। আর এই এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে যে প্লাগিনটি বর্তমানে বেশিরভাগ প্রফেশনাল এফিলিয়েট মার্কেটাররা তাদের এফিলিয়েট লিংক ম্যানেজমেন্টের জন্য ব্যবহার করে থাকেন, তার নাম হল “Thirsty Affiliate”।

Thirsty Affiliates অনলাইন ব্লগিং টুলস

এই প্লাগিনটির ফ্রি এবং পেইড দুইটি ভার্সনই রয়েছে। আর আমার মতে পেইড ভার্শনটাই প্রথমে কিনে নিলে একদম শুরু থেকেই আপনি এর উপকারিতা উপভোগ করতে শুরু করবেন।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনঃ 

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে অনলাইনে আয় করবেন ?

যে অনলাইন ব্লগিং টুলস গুলোর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মাসে দশ লাখেরও বেশি ট্র্যাফিক আনতে পারবেন আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে সেগুলো হইল –

Ahrefs:

বর্তমান সময়ে ট্রাফিক অর্থাৎ ওয়েবসাইটের ভিজিটরের জন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি ওয়েবসাইট যদি সঠিক উপায়ে অপটিমাইজড না হয়ে থাকে তাহলে তার থেকে ভালো ফলাফল আশা না করাই উত্তম।

আর এসইও এর জন্য যে ব্লগিং টুলস গুলো বর্তমানে পাওয়া যায় তার মধ্যে যে অনলাইন ব্লগিং টুলস টির উপর একদম নিঃসন্দেহে চোখ বন্ধ করেই নির্ভর করা যায় তার নাম হল “Ahrefs”। অনলাইন জগতে আমার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার ডেভেলপের ক্ষেত্রে এই টুলটি যে কতটা উপকারী ভূমিকা পালন করেছে সেটা অল্প কয়েক কথায় বর্ণনা করা একদমই অসম্ভব।

সে সব কথায় বরং না যাই, তবে অল্প কয়েক কথায় বলতে গেলে সঠিক কি-ওয়ার্ড বাছাই, ব্যাকলিংক, প্রতিযোগীদের নিয়ে গবেষণা, ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট নিয়ে আরো বেশি ধারণা পাওয়া ইত্যাদি সহ আরো বেশ কিছু তথ্য আপনি এই ব্লগিং টুলস টির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন টুলস Ahrefs

এই টুলটির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলতে গেলে আসলে কখনো থামা যাবে না, তবে এক কথায় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের জন্য আপনার যাবতীয় যা কিছু লাগবে সবগুলোই আপনি এই টুলটির মধ্যে পেয়ে যাবেন।  আর এই টুলটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য শুরুতেই আপনাকে গুনতে হবে না কোন খরচ। কেননা এই টুলটির মধ্যে রয়েছে ৭ দিনের একটি ট্রায়াল ভার্শন। এই সাতদিন আপনি টুলটি ব্যবহার করবেন এবং যাবতীয় তথ্যাবলি নিয়ে সন্তুষ্ট হলেই কেবল ফুল পেইড ভার্শনটি কিনে নিতে পারেন। তবে এখানেও কথা দিচ্ছি, লাখো অনলাইন মার্কেটারদের মধ্যে সবচাইতে জনপ্রিয় এই টুলটির ক্ষেত্রে আপনাকে কখনই হতাশ হতে হবে না বরং এই টুলটির সঠিক ব্যবহার আপনাকে এনে দিতে পারে আপনার সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

অন্যান্য যে অনলাইন ব্লগিং টুলস গুলোও ব্যক্তিগত ভাবে ব্যবহার করে থাকিঃ

এসইও এর টুলগুলোর যদি কোন তালিকা করা হয় তাহলে Ahrefs এর সাথে সাথে সেই তালিকার শীর্ষে Semrush অবস্থান করবে । এছাড়াও আরো বেশ কিছু ফ্রি এসইও টুলস ব্যবহার করতে পারেন। এগুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়:

  • Google Webmaster: এই আবশ্যিক ব্লগিং টুলস টি একদম বিনামূল্যেই ব্যবহার করতে পারবেন
  • Google Analytics: আপনার ওয়েবসাইটের যাবতীয় তথ্যগুলোর উপর এই অনলাইন ব্লগিং টুলস টি দিয়ে আপনি করতে পারবেন চুলচেরা বিশ্লেষণ
  • Yoast SEO: এই ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিনটির ফ্রি ভার্শনেই আপনি অনেক প্রয়োজনীয় গাইডলাইন পেয়ে যাবেন। এই অনলাইন ব্লগিং টুলস টির মাধ্যমে আপনার কন্টেন্টকে এক নিমেষেই করতে পারবেন এসইও অপটিমাইজড
  • W3 total cache: আপনার ওয়েবসাইটের স্পিড বৃদ্ধির জন্য এই ফ্রি অনলাইন ব্লগিং টুলস ব্যবহার করতে পারবেন। উল্লেখ্য যে এটিও একটি ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন
  • Cloudflare: এটি একটি ফ্রি কন্টেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক

ইমেইল মার্কেটিংয়ে যে অনলাইন ব্লগিং টুলস গুলো প্রতিদিন এক লাখেরও বেশি মানুষের কাছে বিজ্ঞাপন দিতে সাহায্য করে –

হ্যাঁ বন্ধুরা ! ঠিকই শুনেছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আমাকে সঠিক অনলাইন ব্লগিং টুলস গুলো চিনতে শিখিয়েছে। আর আমি এখন চাই আমার অভিজ্ঞতাগুলো আপনাদের কাছে শেয়ার করতে। যাতে করে আপনারাও কিঞ্চিৎ উপকৃত হতে পারেন।

ইমেইল মার্কেটিং সম্পর্কে টুকটাক আমরা অনেকেই জানি, তবে জানিনা এর মূল সিক্রেট। একজন সফল ইমেইল মার্কেটারের প্রত্যেকটি সফলতার পেছনে রয়েছে কিছু অসাধারণ কার্যকরী অনলাইন ব্লগিং টুলস । আর ঠিক তেমনই কিছু ব্লগিং টুলস সম্পর্কে আজ আমরা জানবো। যে ব্লগিং টুলস গুলোর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি প্রতিনিয়তই লাখো মানুষের কাছে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপনটি পৌঁছে দিতে পারবেন !

Aweber:

আমি বিগত বহু বছর অনেকগুলো ইমেইল মার্কেটিং কোম্পানির বিভিন্ন অনলাইন ব্লগিং টুলস নিয়েই কাজ করেছি। আর সত্যি কথা বলতে কি, প্রত্যেকটি কোম্পানির ব্লগিং টুলস গুলোই আমাকে মুগ্ধ করেছে। আর তাই সবচাইতে প্রিয় কোন ব্লগিং টুলস টি, সেটি আমি বলছি না আপাতত।

আরো অনেকগুলো টুলের মতই Aweber ব্লগিং টুলস টি আমি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহার করে আসছি। এই টুলটি আমাকে মুগ্ধ করেছে এর সহজ সুন্দর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম দিয়ে।

ইমেইল মার্কেটিং টুলস Aweber

মজার কথা হল, আপনি কিছুদিনের জন্য এই ব্লগিং টুলস টি ফ্রিতেও ব্যবহার করে দেখতে পারবেন যে এটি কতটা অসাধারণ। আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে ৫০০ ইমেইল সাবস্ক্রাইবার হওয়া পর্যন্ত এই টুলটি আপনি একদমই বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারছেন। এই ব্লগিং টুলস টি ব্যবহার করাটা বেশ সহজ আর তাই একদম প্রফেশনাল মার্কেটারদের পাশাপাশি যারা মাত্রই ইমেইল মার্কেটিং শুরু করেছেন তারাও বেশ সহজেই এই অনলাইন ব্লগিং টুলস ব্যবহার করতে পারবেন।

তবে আপনি যদি আরেকটি কমপ্লিকেটেড এবং এডভান্স লেভেলের মার্কেটিং করতে চান তাহলে Drip নামক নিচের অনলাইন ব্লগিং টুলস ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তাহলে আসুন, জেনে নেই Drip নামক এই ব্লগিং টুলস টি সম্পর্কে।

DRIP:

আপনি যদি ইমেইল মার্কেটিং এর জন্য সাবস্ক্রাইবারদের ব্যক্তিগত আচরণ এবং তথ্যাদির উপর ভিত্তি করে মার্কেটিং এর ফিচার এর মত আরো কিছু এডভান্স লেভেলের ফিচার খুঁজে থাকেন তাহলে DRIP নামক এই টুলটি আপনার জন্য একদমই পারফেক্ট।

ইমেইল মার্কেটিং টুল DRIP

আর আপনি যদি একটু দক্ষ অথবা বেশ কিছুদিন ধরেই ইমেইল মার্কেটিং করার অভিজ্ঞতা থাকে তাহলেই আপনি এই এডভান্স লেভেলের ইমেইল মার্কেটিং টুলটি ব্যবহার করা শুরু করুন। কেননা, এর অসাধারণ সব ফিচার আপনার দক্ষতাকে আরো অনেক বেশি কার্যকরী করে তুলতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন আপনি যদি এর আগে কখনও ইমেইল মার্কেটিং না করে থাকেন তাহলে এটি কখনই আপনার জন্য নয়। কেননা, এর এডভান্স লেভেলের সব ফিচারের মাঝে নিজেকে গুলিয়ে ফেলার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

আমি Aweber এবং Drip দুটি ব্লগিং টুলস বেশ কিছুদিন ধরে ব্যবহার করে আসছি আর দুটি টুলই আমাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে অনেক সাহায্য করেছে।

তবে আপনি যদি আমার একদমই ব্যক্তিগত পছন্দের কথা জানতে চান, তাহলে আমি বলব Aweber এর কথা। কেননা ইমেইল মার্কেটিংয়ে একদম পুরোপুরি দক্ষ না হয়েও কিন্তু আপনি এই ব্লগিং টুলস দিয়ে বেশ সাফল্য অর্জন করতে পারবেন।

Ninja Outreach:

এই অনলাইন ব্লগিং টুলস টি ব্যবহারের মাধ্যমে আমি অনলাইন থেকে অনেক অর্থ উপার্জন করেছি। কীভাবে জানতে চান? তবে আসুন সে কথা বলি, এই একটি টুল দিয়েই আমি অনেকগুলো কাজ একসাথে করেছি। যেমন আমার ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাংকলিংক তৈরি করা থেকে শুরু করে প্রতি মাসে হাজারের উপরে মেইল পাঠানোর কাজ করতে এই টুলই আমাকে বেশ সাহায্য করেছে।

Ninja Outreach  ইমেইল মার্কেটিংয়ে জন্য জনপ্রিয় টুল

ওয়েবসাইট নিয়ে আপনারা যারা কাজ করেছেন, তারা সবাই মোটামুটি জানেন যে একটি ওয়েবসাইটের জন্য এসইও কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর এই টুলটি আমার ওয়েবসাইটগুলোতে ইমেইল মার্কেটিং করার পাশাপাশি এসইও এর জন্যও অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে। তাই আপনি যদি নিজের ওয়েবসাইটের এসইও আরো অনেক ভালো করে তুলতে চান তাহলে এই টুলটি আপনার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই কোন চিন্তা না করেই এখুনি এই টুলটি ব্যবহার করা শুরু করুন। আর ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনি বিনামূল্যে টুলটির ট্রায়াল ভার্শন ব্যবহার করতে পারবেন।

G SUITE:

আপনি যদি ইমেইল মার্কেটিং করে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে ইমেইলের ক্ষেত্রে একটি ডোমেইনের মত ইমেইল এড্রেস পাঠানো ইমেইলটির গুরুত্ব কতটা বাড়িয়ে দেয়?

ইমেইল এড্রেস তৈরি করে নিতে পারবেন এই G SUITE অনলাইন ব্লগিং টুলস থেকে

যেমন বলা চলে, আপনি চাইলেই contant@travelwitharif.com এর মত ইমেইল এড্রেস তৈরি করে নিতে পারবেন এই অনলাইন ব্লগিং টুলস থেকে। এছাড়াও এই টুলটিতে রয়েছে আরো অন্যান্য বেশ কিছু চমৎকার ফিচারের সমাহার যা আপনাকে রীতিমত মুগ্ধ করবে। আর আপনি যদি এই টুলটি এখন ক্রয় করতে চান তাহলে এই প্রমোশনাল কোডটি ব্যবহার করে প্রথম বছরের জন্য ২০% কম মুল্যে এই টুলটি ব্যবহার করা শুরু করতে পারবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ব্লগিং টুলসঃ

Buffer:

সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ম্যানেজমেন্ট করার জন্য আপনি যখন পুরো একটি টিম নিয়ে বসবেন তখন আপনার প্রয়োজন হবে Buffer এর মত টুলের। ব্লগ অথবা ওয়েবসাইটের জন্য লাখো সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট টিমের এই Buffer হল পছন্দের একটি অনলাইন ব্লগিং টুলস ।

সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট ম্যানেজমেন্ট টুল Buffer

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের জন্য Meetedgar টুলটি ব্যবহার করা শুরু করার আগে আমি দীর্ঘদিন ধরে Buffer ব্যবহার করেছি এবং এই টুলটির উপকারিতার জন্য প্রতিনিয়তই চমৎকৃত হয়েছি। এই টুলটির ফ্রি ভার্শনই অনেক কাজের জন্য বেশ যথেষ্ট হলেও এর প্রিমিয়াম ভার্শনটিও যদি কিনে ব্যবহার করেন তাহলেও আপনাকে হতাশ হতে হবেনা একটুও।

এই ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের জন্য আরেকটি অলটারনেটিভ হল Hootsuite, কেননা এই টুলটি ব্যবহারও বেশ সহজ এবং কার্যকরী। তবে Buffer এবং Hootsuite এর মধ্যে যদি আপনি যে কোন একটিকে বেছে নিতে চান তাহলে আমি বলব কোন চিন্তা না করেই Buffer ব্যবহার করার জন্য।

Canva:

যে কোন ওয়েবসাইট অথবা ব্লগের জন্য ফিচার ইমেজের প্রয়োজন আছে বলে আমরা সবাই জানি। আর এই ইমেজগুলোর ডিজাইন যদি বেশ ভালো হয় তাহলে সেটা আপনার ওয়েবসাইটের মান বৃদ্ধি করার জন্য কতটা কার্যকরী ভূমিকা পালন করে সেটা আর বলাই বাহুল্য। কেননা, আপনার লেখা যদি অসাধারণও হয়ে থাকে তবে গ্রাফিক্স এর কাজগুলো একদমই সাধারণ অথবা দেখতে সুন্দর না হয় তাহলে ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটটি সম্পর্কে একটি বাজে ধারনা পোষণ করবেন।

Canva জনপ্রিয় একটি গ্রাফিক্স ডিজাইন টুলস

এখন কথা হল যে, তাহলে কি আপনাকে গ্রাফিক্স ডিজাইনও শিখে নিতে হবে? না, Canva নামক এই টুলটি ব্যবহার করলে আপনাকে আলাদা করে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে হচ্ছে না। শুধুমাত্র সামান্য কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমেই আপনি ব্লগ অথবা ওয়েবসাইটের জন্য চমৎকার এবং প্রফেশনাল ছবি তৈরি করে ফেলতে পারবেন একদম এক নিমেষেই। আর সবচাইতে মজার বিষয় হল এই টুলটির ফ্রি ভার্শন দিয়েও আপনি বেশ কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনঃ 

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং টুলস আপনি কিভাবে বেছে নিবেন ??

Teachable:

অনেককেই দেখে থাকবেন অনলাইনে নিজের জ্ঞান অথবা আইডিয়া বিভিন্ন অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে বিক্রি করে বেশ সহজেই অর্থ উপার্জন করে নিচ্ছে। আর ঠিক তেমনই আপনি যদি কোন বিষয়ের উপর এক্সপার্ট হয়ে থাকেন তাহলে এই Teachable সাইটটির মাধ্যমে নিজের একটি অনলাইন কোর্স চালু করে দিতে পারবেন।

Teachable অনলাইন কোর্সের জনপ্রিয় সাইট

অনলাইন কোর্সের ক্ষেত্রে এই ওয়েবসাইটি একদম সহজ এবং বেশ জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট। অনলাইন কোর্সের ছাত্ররাও এখানে একাউন্ট তৈরি করে নিজের পছন্দের কোর্সটি সম্পর্কে বিস্তারিত দেখতে পাবে।

Gleam:

বর্তমান সময়ে অনেককেই দেখবেন খুব জনপ্রিয় অথবা আকর্ষণীয় কন্টেন্টগুলো লক করে দেয় এবং ইউজারকে একটি সার্ভে অথবা ইমেইল প্রদানের মাধ্যমে সেই কন্টেন্টটি আনলক করে নিতে হয়।

Gleam হইল ওয়েব ব্লগিং টুলস

Gleam নামক এই ওয়েব ব্লগিং টুলস টির মাধ্যমে আপনিও নিজের ব্লগ অথবা ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট লক করে সেখান থেকে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে নিতে পারবেন।

Upviral:

আপনার কোন বন্ধু যদি আপনাকে কিছু ব্যবহার করতে বলে তাহলে অবশ্যই আপনি তাকে বিশ্বাস করে সেটি ব্যবহার করে থাকেন, ঠিক না? ঠিক এখানেই Upviral নামক এই অনলাইন ব্লগিং টুলস আপনার জন্য অন্য বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

upviral টুলটি মাধ্যমে অনলাইন কোর্সের ক্যাম্পেইন চালানো যায়

এই টুলটির মাধ্যমে আমি নিজে আমার বিভিন্ন অনলাইন কোর্সের ক্যাম্পেইন চালিয়েছি। যেটা কোন একজন যদি অপরজনকে রেফার করে তাহলে আমার পক্ষ থেকে একটি বোনাস তাকে আমি দেই এই টুলটির মাধ্যমে।

নিজের বিজনেস অথবা ওয়েবসাইটের সাবস্ক্রিপশন যদি আপনি ভাইরাল করতে চান তাহলে এই টুলটি খুবই জনপ্রিয় এবং কার্যকরী। Gleam এর টুলটি ব্যবহার করে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই আপনি বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে নিতে পারবেন।

Zapier:

আপনার অনলাইন বিজনেসে কোন একটি কাজ যদি আপনাকে বারবার করা লাগে তাহলে সেখানে আপনার অনেক সময় লস হয়ে যায়। সেই সময়ে আপনি হয়ত নতুন কোন একটি কাজ করতে পারবেন। আর এখানেই Zapier আপনাকে সাহায্য করতে আসে, কেননা এই টুলটির মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট একটি কাজ অটোমেটিক ভাবেই বারবার করিয়ে নিতে পারবেন। প্রতি মাসে এই টুলটির মাধ্যমে আমি অনেক সময় বাঁচাতে পারি এবং সেই সময়ে নতুন কোন কাজ অথবা আইডিয়া কার্যকর করতে পারি।

অটোমেটিক কাজের জন্য Zapier হচ্ছে একটি অনলাইন ব্লগিং টুলস

যেমন ধরুন কোন ইমেইল সাবস্ক্রিপশন গুগুল শিটের মধ্যে আপনাকে যদি বারবার তুলতে হয় তাহলে সেটা বেশ বিরক্তিকর একটি কাজ এবং সময় সাপেক্ষ। কিন্তু এই টুলটির মাধ্যমে আপনি অতিরিক্ত কোন সময় ব্যয় না করেই এই কাজটি নিমেষের মধ্যেই করে নিতে পারবেন।

Hubstaff:

 সময়কে ট্র্যাক করতে Hubstaff  টুলস ব্যবহার করা হয়

সময়কে ট্র্যাক করার জন্য সবচাইতে জনপ্রিয় টুলটি হল এই Hubstaff। নিজের উদাহরণই দিচ্ছি, আমি প্রতি মাসে প্রায় নিয়মিতই ১৫ থেকে ২০ জন ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে আমার বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেই। সেক্ষেত্রে কোন ফ্রিল্যান্সারকে আমি কাজের জন্য ঠিক কোন ডেডলাইনটি দিয়েছি এবং কাকে কত টাকা ঠিক কখন দিতে হবে সেগুলো এই টুলটির মাধ্যমে এক নিমেষেই দেখে নিতে পারি।

Proof:

আমার নিজের ক্ষেত্রে বলতে গেলে নিজস্ব ল্যান্ডিং পেজ থেকে ঠিক কি পরিমাণ অর্থ উপার্জন হচ্ছে সেটার কনভার্সন রেট আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, একই পরিমাণ ট্রাফিক অর্থাৎ ভিজিটর থেকে আমি যত বেশি পরিমাণ সাবস্ক্রিপশন পাব আমার জন্য ঠিক ততই বেশি লাভ।

Proof টুলটি ব্যবহারের মাধ্যমে ল্যান্ডিং পেজ থেকে সাবস্ক্রিপশন বৃদ্ধি করা যায়

এই টুলটি ব্যবহারের মাধ্যমে আমার ল্যান্ডিং পেজ থেকে আমি প্রায় ২৭% বেশি সাবস্ক্রিপশন অর্জন করতে পেরেছি। বিষয়টি অবাক হলেও একদম সঠিক! আর তাই এই টুলটি আমি আপনাদেরকে রিকমেন্ড করছি, যাতে করে আপনারা একটু হলেও আমার সাজেশন থেকে উপকৃত হতে পারেন।

Search and buy domains from Namecheap

যেসব টুলগুলো ব্যবহার করে ইউটিউবের জন্য হাই কোয়ালিটি ভিডিও তৈরি করা যায়ঃ

আমি কোয়ালিটি অর্থাৎ মানের ক্ষেত্রে কখনই কোন কম্প্রোমাইজ করি না। হ্যাঁ, আপনি নিজের মোবাইল দিয়েও যে কোন ভিডিও তৈরি করে নিতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে আপনার ভিডিওটি দেখতে মোটেও প্রফেশনাল ভিডিও মনে হবে না। তাই মোটামুটি একটি প্রফেশনাল লুক দিতে আপনার যে টুলগুলো প্রয়োজন হবে তার একটা লিস্ট নিচে দিচ্ছি, দেখে নিনঃ

  • ক্যামেরার ক্ষেত্রে: Nikon D-5300 অথবা Canon 200d ব্যবহার করতে পারেন
  • লেন্সের ক্ষেত্রে: 50mm প্রাইম লেন্স অথবা Sigma 18-23 F1.8 লেন্স ব্যবহার করতে পারেন
  • ট্রাইপডের ক্ষেত্রে: Everycom অথবা ManfroTo কোম্পানির প্রফেশনাল ট্রাইপড ব্যবহার করতে পারেন
  • মাইক্রোফোনের ক্ষেত্রে: Boya omnidirectional এবং Zoom h1 এর মধ্যে যে কোন একটি ব্যবহার করলে সবচাইতে সেরা পারফরম্যান্সটি পাবেন
  • স্ক্রিন রেকর্ডিং এর সময় ভয়েস রেকর্ডিং এর জন্য Blue yeti নামক টুলটি ব্যবহার করতে পারেন
  • লাইটিং এর জন্য: আমাজন থেকে ভালো মানের আমব্রেলা বা ছাতা, এলইডি লাইট, স্ট্যান্ড এবং সফটবক্স কিনে নিতে পারেন
  • ভিডিও এডিটিং এর ক্ষেত্রে এডোবি প্রিমিয়ার প্রো এবং স্ক্রিন রেকর্ডিং এর জন্য Camtasia ব্যবহার করার জন্যই আমার পরামর্শ থাকবে আপনার জন্য

অন্যান্য আরো কয়েকটি অনলাইন ব্লগিং টুলস যেগুলোর মাধ্যমে সবকিছু অনেক সহজ ভাবে করা যায়ঃ

  • Evernote: আমার সকল ধরনের ডাটা আমি সবসময় ইভারনোটের মধ্যে সেভ করে রাখি
  • Wunderlist: কখন আমাকে কোন কাজটি করতে হবে সেটা আমি এই টুলের মাধ্যমে খুব সহজেই মনে রাখতে পারি
  • Google Analytics App: এর মাধ্যমে আমি আমার সবগুলো ওয়েবসাইটের এনালাইটিক্স একসাথে এক নজরে দেখে নিতে পারি
  • Quora: এই সাইটে আমি অনেক সময় অতিবাহিত করি। এই সাইট থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারি, যে তথ্যগুলো আমি অন্য কোথাও পাই না
  • Asana: যে কোন প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য আমি এই টুলটি ব্যবহার করে থাকি। যা আমার কাজকে অনেকাংশেই সহজ করে তোলে
  • Slak: এই টুলটি বিশেষ ভাবে আমার খুব প্রিয়। এটা কিছুটা হোয়াটসআপের মতই, তবে টিম মেম্বারদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখার জন্য এই টুলটি বেশ উপকারী এবং কার্যকরী

লেখক পরিচিতিঃ

Md.Arifur Rahman

Arifur Rahman, Digital Marketing Expert , SEO Expert , Digital Marketing Trainer, PPC Expert ,Social Media Specialist,Consultant, ব্লগিং টুলস

Digital Marketing Expert | SEO Expert | Digital Marketing Trainer |
PPC Expert | Social Media Specialist | Consultant

ভালো লাগলে শেয়ার করুন