বর্তমানে যে ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে সবাই সফল হচ্ছেন

বর্তমানে যে ডিজিটাল মার্কেটিং পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে সবাই সফল হচ্ছেন : ডিজিটাল মার্কেটিং জগতে প্রতিনিয়তই নিত্য নতুন টেকনিকের আগমন ঘটছে। তার মধ্যে কিছু স্থায়ী হয়ে থেকে যায় আর কিছু টেকনিক থেকে তেমন কোন ফলাফল না পাওয়া যাওয়ার কারণে সেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে কালের গর্ভে। কাস্টোমারের কাছে কীভাবে আরো ভালভাবে নিজেকে উপস্থাপন করা যায় সেটা নিয়েই সর্বদা চলে আসছে বিভিন্ন গবেষণা।

আর প্রতিনিয়ত এইসব ডিজিটাল মার্কেটিং এর পদ্ধতিগুলো কীভাবে প্রয়োগ করলে আরো ভালো ফলাফল পাওয়া যায় সেটাই আদতে আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠে।

Social Media Marketing Courses

যেহেতু বর্তমান অনলাইন জগত জুড়ে হাজারো কম্পিটিশন, তাই এই কম্পিটিশনে নিজের কোম্পানিকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেটাই সকলের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। আর তাই দেখা যাচ্ছে একই পদ্ধতি একটু ভিন্ন ভাবে অনুসরণ করে কেউ অনেক ভালো ফলাফল পাচ্ছেন, আবার কেউ তেমন ফলাফল পাচ্ছেন না।

তবে এর মধ্যে যে বিষয়টি স্থায়ী আসন গেড়ে বসে আছে সেটা হল তথ্য এবং উপাত্ত! কোন পদ্ধতিটি ভালো ফলাফল দিচ্ছে না আর কোণটি দিচ্ছে এবং কেন দিচ্ছে, সবই তথ্য এবং উপাত্ত বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারা যায়।

ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং কি ( What is Data Driven Marketing) ? কেনই বা এই মার্কেটিং পদ্ধতি এত বেশি জনপ্রিয় ও সফল?

আর এই মার্কেটিং পদ্ধতি নিয়ে টেরাডাটা নামক বিশ্ব বিখ্যাত ডেটা কোম্পানির সেলস ডিরেক্টর মার্ক বলেন, “কাস্টোমার আসলে চায়, আপনি এমন ভাবে মার্কেটিং করুন যাতে মনে হয় আপনি কাস্টোমারকে খুব ভালো ভাবে চিনেন।” স্মার্ট ফোন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের এই যুগে কাস্টোমারদের পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে জেনে নেয়াটা অনেকটাই সহজ হয়ে উঠেছে।

আসুন দেখে নেই, বর্তমান সময়ে যে পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে সবাই মোটামুটি ভালো ফলাফল পাচ্ছেন এবং এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর যুগে এই পদ্ধতিগুলো মোটামুটি দীর্ঘ সময়ের জন্যই স্থায়ী আসন গেঁড়ে বসতে যাচ্ছেঃ

তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে (ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং) বিজ্ঞাপন

Data Driven Marketing

একটু আগেই বলছিলাম যে এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আপনার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা খুবই সহজ। কেননা গুগুল সবসময়ই বলতে পারছে আপনি কখন কোথায় যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি অনলাইন থেকে আপনি কি, কখন এবং কেন অর্ডার করছেন সব তথ্যই এখন পাওয়া সম্ভব।

হ্যাঁ! প্রাথমিক ভাবে আপনি নিজের প্রাইভেসি নিয়ে কিছুটা চিন্তিত হয়ে উঠলেও, আদতে বিজ্ঞাপনগুলো যদি আপনার নিজের পছন্দ অনুযায়ী আসে তাহলেই কি ভালো নয়?

ধরুন আপনি স্বাস্থ্যগত কারণে গরুর গোশত খান না তবে চিকেন দিয়ে তৈরি খাবার আপনি প্রায়ই অনলাইনে অর্ডার দিয়ে থাকেন। এখন যদি সারাক্ষণ আপনার সামনে গরুর গোশত দিয়ে তৈরি খাবারের বিজ্ঞাপন আসতে থাকে, তাহলে সেটা আপনার জন্য কতটা গ্রহণযোগ্য? স্বাভাবিক ভাবেই আপনার খুবই বিরক্ত লাগবে।

ঠিক এভাবেই আপনার যাতে বিরক্ত না লাগে এবং আপনার পছন্দের পণ্যটির বিজ্ঞাপনই যাতে কেবলমাত্র আপনার সামনে আসে সেই পদ্ধতিটিই এখন বর্তমানে বহুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

২০১০ থেকে ২০১৫ সালের দিকে ডেটা ড্রিভেন টেকনিক, ডিজিটাল মার্কেটিং এর জগতে রীতিমত ট্রেন্ড হিসেবে থাকলেও কালের গর্ভে হারিয়ে যায়নি। এমনকি বলা যেতে পারে যে এই পদ্ধতিটি বরং আরো পাকাপোক্ত ভাবে নিজের আসন দখল করে নিয়েছে।

আর এই ডেটার উপর ভিত্তি করেই অনেক বড় বড় কোম্পানিও প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই।

Facebook Ads & Facebook Marketing MASTERY 2020 | Coursenvy ®

কাস্টোমারকে কতক্ষণ বা কতদিন পরপর মেসেজ করা উচিৎ

Digital Marketing

আমাদের কাছে প্রায় সময়ই বিভিন্ন কোম্পানি থেকে নানা রকম পণ্য এবং অফার নিয়ে মেসেজ আসে। তবে অনেক বেশি যদি এই মেসেজ আসা শুরু করে তাহলে কিন্তু আমরা অনেক বিরক্তও হয়ে থাকি।

আর তাই কাস্টোমারকে ঠিক কতক্ষণ পর মেসেজ দিলে অনেক বেশি সেল হবে অথবা সেই বিজ্ঞাপন থেকে ভালো ফলাফল আসবে সেটা নিয়ে বিভিন্ন টেস্ট অর্থাৎ পরীক্ষা নিরীক্ষা করার ট্রেন্ড এখন বেশ স্থায়ী একটি পদ্ধতি হয়তে উঠেছে।

ফেসবুক পিক্সেল কি এবং কেন—জেনে নিন এর বিস্তারিত ব্যবহার!

কেননা দেখা যায় প্রত্যেকটি কোম্পানিই আলাদা এবং তাদের অফার ও বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যেও বেশ বৈচিত্র্যের ছাপ দেখা যায়। আর তাই এই কোম্পানিগুলো যখন তাদের কাস্টোমারদের কাছে মেসেজ পাঠায় তারা নিজেরাই বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বের করে নেয় তাদের মেসেজ পাঠানোর মধ্যে কতটুকু সময় গ্যাপ থাকবে।

তবে আদতে এই পরীক্ষা নিরীক্ষার কোন শেষ নেই, কেননা বিজ্ঞাপন দাতারা সবসময়ই একটি পারফেক্ট এবং সবচাইতে বেশি ফলাফল পাওয়া যাবে এমন বিজ্ঞাপনই দেখাতে চান বা মেসেজ করতে চান। তবে এর মধ্যেই আবার সবাইকে বেশ সতর্ক থাকতে হয় যাতে করে পূর্বের কাস্টোমাররা এই বিজ্ঞাপন যুক্ত মেসেজের কারণে বিরক্ত হয়ে তাদের সেবা গ্রহণ যেন বন্ধ না করে দেয়!

Social Media Management – The Complete 2019 Manager Bootcamp

ডেটা সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহার

আপনি হয়ত ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং সম্পর্কে শুনেছেন এবং এই ব্যাপারে বেশ উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। এখন ফেসবুক পোস্ট দেয়ার মত ছোটখাটো ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং বেশ কিছুটা সহজ মনে হলেও আপনি যখন বড় আকারের কোন বিজ্ঞাপন করতে যাবেন, তখন সঠিক উপায় এবং ডেটার সঠিক ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এইজন্যই বর্তমানে ডেটা সংরক্ষণ এবং সঠিক ব্যবহারের জন্য আলাদা বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন। যে কোন বিজ্ঞাপনকে টার্গেটেট কাস্টোমারের কাছে পৌঁছে দিয়ে সেটা থেকে ভালো ফলাফল অর্জন করার জন্যই বর্তমানে এই পদ্ধতিটিও বেশ স্থায়ী আসন দখল করেছে বলা যায়। তবে উল্লেখ্য যে বিগ স্কেলে যে কোন ধরণের ব্র্যান্ডকে কাস্টোমারের কাছে গ্রহণযোগ্য হিসেবে পৌঁছে দেয়াটাই এই পদ্ধতির সবচাইতে বড় সফলতা।

ফেসবুক নিয়ে অজানা কিছু তথ্য

বিভিন্ন খেলা ও উপহারের মাধ্যমে কাস্টোমারের মনোযোগ আকর্ষণ

এই পদ্ধতিটি বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং ক্ষেত্রে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও এই ধরণের পদ্ধতিকে অনেক পুরানো পদ্ধতিই বলা চলে। এর একটি চমৎকার উদাহরণ হিসেবে বলা চলে, ছোট বেলায় চরকি ঘুরিয়ে আইসক্রিম জিতে নেয়ার আনন্দের কথা মনে করা যেতে পারে। সেই আইসক্রিম ওয়ালাও কিন্তু তার আইসক্রিমের প্রতি আমাদের আকর্ষণ ধরে রাখার জন্যই এই ধরণের খেলার আয়োজন রাখতেন।

বিভিন্ন খেলা, প্রতিযোগিতা অথবা এই ধরণের কাজের মাধ্যমে কাস্টোমারকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করানো এবং ব্র্যান্ডটিকে সবার কাছে পৌঁছে দেয়া। এই পুরো পদ্ধতিটি আগে অফ লাইনে বিভিন্ন ভাবে অবলম্বন করলেও বর্তমানে অনলাইনেও এর জনপ্রিয়তা রীতিমত তুঙ্গে।

Social Media Marketing – Content Marketing Masterclass 2020

লোকেশন বা কাস্টোমাদের অবস্থান অনুযায়ী বিজ্ঞাপন প্রদর্শন

Geo Targeting

কাস্টোমার এখন ঠিক কোন অঞ্চলে আছে সেটা জানা খুবই সহজ। কেননা বিভিন্ন কারণে এবং এপস থেকে সেবা গ্রহণের জন্য আমাদের স্মার্টফোনে লোকেশন অপশন আমাদের চালু করতেই হয়। আর এই বিভিন্ন এপ্স থেকে এই তথ্য বিভিন্ন বিজ্ঞাপন কোম্পানির কাছে পৌঁছে যায়।

কিভাবে সহজ ৭ টি ধাপে ফেসবুক পেজ বানাবেন

The Complete Facebook Ads Course – Beginner to Advanced

সে যাই হোক, এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটু বললেই হয়ত ব্যাপারটি বুঝতে পারবেন। ধরুন ঢাকায় এখন গ্রীষ্মকাল চলছে আর এখন যদি আপনার কাছে বিজ্ঞাপন আসে শীতের কাপড়ের, তাহলে আপনার কেমন লাগবে একটু ভেবে দেখুন তো? হ্যাঁ! ঠিক এমনই লোকেশন অনুযায়ী বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা খুবই জরুরী।

আপনি যদি লন্ডনের মত শহরে থাকেন, তাহলে সেখানে সবাই জানে আবহাওয়ার কোন ঠিক নেই। আর তাই সেখানে হুডি বা এই ধরণের জামার প্রয়োজনীয়তাও যেমন বেশি, তেমন সেখানে এগুলোর বিজ্ঞাপন দিয়েও আপনার লাভ আছে।

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং বা পেইড এসইও

Google Paid Campaign

আমরা যখন গুগুলে কোন কিছু লিখে সার্চ দেই, তখন একটু খেয়াল করলেই দেখবেন মাঝে মাঝেই একদম শুরুতেই সার্চ রেজাল্টের পাশে বিজ্ঞাপন বা এড কথাটি লেখা আছে। এই পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাকেই সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং বলা হয়। 

এভাবে সার্ভ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার পণ্যগুলো খুব দ্রুত কাস্টোমারদের কাছে পৌঁছে দেয়া যায়। আর এই পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকরও বটে। তবে হ্যাঁ! এই পদ্ধতিতেও রয়েছে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার সুযোগ! কীভাবে অল্প খরচে বেশি কাস্টোমার এবং সেল পাওয়া যেতে পারে সেটা এই সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর একটি বিস্তারিত বিষয়।

যেমন ধরুন আপনার একটি সাইকেলের দোকান রয়েছে। এখন যারা “সাইকেল ক্রয়” বা “কীভাবে সাইকেল কিনব” এই ধরণের লেখা লিখে গুগুলে সার্চ দিচ্ছে, তারা সাধারণত সাইকেল ক্রয় করার জন্যই সার্চ দিচ্ছে। আর এই সার্চ রেজাল্টের শুরুতেই যদি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপনার সাইকেলের দোকানের বিজ্ঞাপন দেয়া যেতে পারে তাহলে সেই ব্যক্তি আপনার দোকান থেকেই সাইকেল কেনার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এভাবে মনে করুন যদি এক হাজার জনের কাছে আপনার বিজ্ঞাপন পৌঁছে দেয়া যায়, তাহলে তো অন্তত একশটি সাইকেল বা অন্তত পঞ্চাশটি সাইকেল বিক্রয় আপনি আশা করতেই পারেন।

10 Facebook Ads Strategies That Make Me 6-Figures

ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং

বর্তমানে সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সেলিব্রেটির সংখ্যা অগণিত। আবার এদের ফ্যান ফলোয়ারেরও কোন অভাব নেই! আপনার একটি পণ্য নিয়ে যদি কোন একজন সেলিব্রেটি নিজেদের ভিডিওতে বা স্ট্যাটাসে বল দেয়, তাহলে দেখা যাবে তাৎক্ষনিক ভাবেই আপনার অনেক সেল হয়ে যাচ্ছে। আর এভাবে আপনি খুব দ্রুতই কাস্টোমারদের কাছে নিজের পণ্যগুলোকে পৌঁছে দিতে পারছেন। 

ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রামের মত মাধ্যমগুলোতে এখন জনপ্রিয় ব্যক্তিদের প্রচারণার কারণে একটি ব্র্যান্ড খুব সহজেই নিজের একটি ব্র্যান্ডি করে ফেলতে পারে। এছাড়া বড় বড় ইউটিউবারদের কাছে অনেক জায়ান্ট কোম্পানিও নিজেদের নতুন গ্যাজেট অথবা পণ্য ফ্রি পাঠিয়ে দেয়, যাতে তাদের পন্যগুলোকে রিভিউ করা হয়।

এভাবে তো এই ইনফ্লুয়েন্সাররা অনেক পণ্য ফ্রিতে পাচ্ছেন, আবার একই সাথে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য আলাদা টাকাও উপার্জন করে নিচ্ছেন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাছ থেকে।

ইনফ্লুয়েন্স মার্কেটিং : যে চারটি ট্রেন্ড মাতিয়ে রাখবে পুরো ২০২০ সাল !!

Facebook Marketing 2020: 1000% Facebook Engagement & Sales

পরিশেষে যে কথাটি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল আপনাকে এই অনলাইনের কম্পিটিশনের যুগে অনেক বেশি ক্রিয়েটিভ হতে হবে। কাস্টোমারদের পছন্দ অপছন্দের তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে আপনি যত বেশি ক্রিয়েটিভ উপায়ে নিজের ব্র্যান্ডকে কাস্টোমারের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন, ততই আপনি বেশি সফলতা অর্জন করবেন।

আরও পড়ুন :

সোশ্যাল মিডিয়া ফ্যান ফলোয়ার কীভাবে বৃদ্ধি করবেন ?

ফ্রিল্যান্সিং কি ? কিভাবে শুরু করবো

ব্লগিং টুলস যা আপনার ব্লগকে নিয়ে যেতে পারে সফলতার শীর্ষে

ভালো লাগলে শেয়ার করুন