যে লেখায় বিক্রি বাড়ে ? ভোক্তাকে কোন কিছু ক্রয় করার ব্যাপারে কনভিন্স করতে পারে এমন কিছু না লিখতে পারলে আদতে সেটা আর লিখেই বা লাভ কি? অনেকেই মনে করে থাকেন দাম কম হলে বিক্রি বেশি হয়, তবে ফেসবুক মার্কেটিং নিয়ে লেখা সিরিজটি পড়ে আমরা অন্তত এটা বুঝেছি যে মুলত ভোক্তা যদি আপনাকে বিশ্বাস করে তাহলে দাম বেশি হলেও আপনার পণ্যটিই ক্রয় করবে।


আর তাই আপনার ফেসবুক পোস্ট, ফেসবুক বুস্ট অথবা গুগুল বিজ্ঞাপনের লেখাগুলো হতে হবে খুবই আকর্ষণীয় এবং কনভিন্সিং। মোটা দাগে বলতে গেলে এমন ভাবে লিখতে হবে যেটা পড়ে ভোক্তা আপনার পন্যটি ক্রয় করতে ইচ্ছুক হয়।

উপরে কোর্সটি কিনতে ক্লিক করুন

তবে তার মানে এই নয় যে সবসময় সবকিছুর মধ্যেই আপনি কেবল বিক্রয় নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়বেন বরং ব্র্যান্ড ভ্যালু ডেভেলপমেন্টের দিকেও আপনার যথেষ্ট পরিমানে সচেষ্ট হতে হবে।

আমাদের আজকের আর্টিকেলে আপনাকে ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি এবং একই সাথে বিক্রয় বাড়াতে পারে এমন কিছু লেখার কৌশল এবং কিছু ট্রিকস ও টিপস শেখাতে যাচ্ছি। আর্টিকেলের শেষ পর্যন্ত থাকুন, কে জানে হয়ত এই আর্টিকেলটিই আপনার ব্যবসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে।

লেখার সময় যে বিষয়গুলোর প্রতি আপনাকে মনোযোগী হতে হবে
লেখা হতে হবে সহজবোধ্য
মনে রাখতে হবে, আপনি একদম সাধারণ মানুষের কাছে নিজের পণ্য সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দিতে যাচ্ছেন। আর তাই সেই লেখাটি হতে হবে এমন যাতে করে যে কেউ এক নজরেই বুঝতে পারে সেই লেখাটি দিয়ে ঠিক কি বুঝানো হয়েছে। একই সাথে খেয়াল রাখতে হবে লেখার মধ্যে যেন সবসময় আকর্ষণ বজায়ে থাকে। কেননা আপনি লেখার মাধ্যমে যতক্ষণ পর্যন্ত একজন পাঠক বা দর্শককে আটকে রাখতে পারবেন আপনার বিক্রয়ের সম্ভাবনা তত বেশি বৃদ্ধি পেয়ে যায়।

কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন

কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন
লেখা যদি আপনি গুগুলে র‍্যাংক করাতে চান, তাহলে অবশ্যই সেই লেখার মধ্যে সঠিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। তবে শুধুমাত্র কিওয়ার্ডের অযাচিত ব্যবহার লেখার মান নষ্ট করে দিতে পারে, সেদিকেও আপনার বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া কিওয়ার্ডগুলো সঠিক কিওয়ার্ড রিসার্চের মাধ্যমে বের করে আনতে হবে।

আকর্ষণীয় ভাবে উপস্থাপন করুন
সবসময় মনে রাখবেন, ভোক্তা এখান থেকে কি উপকার পাবে সেটার প্রতি বেশি মনোযোগী হবেন। ধরুন আপনার একটি পণ্য সম্পর্কে লিখবেন, এখন সেই পন্যের গুণগত মান সম্পর্কে অযাচিত কথা না লিখে, আদতে এই পণ্যটি কি ভোক্তার চাহিদা মেটাতে পারবে কি না, এই পণ্য থেকে ভোক্তা কিভাবে উপকৃত হবেন সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
সরাসরি কাজের কথা বলে দিন

যে কোন বিষয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অথবা ভনিতা না করে বরং সরাসরি আপনি জরুরী কথাটি বলে দিন। যে কোন লেখা কিভাবে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবেন সে বিষয়ে ফেসবুক মার্কেটিং গাইডের মধ্যে বিস্তারিত দেয়া রয়েছে। আপনি চাইলে আমাদের ফেসবুক মার্কেটিং গাইডটি পড়ে দেখতে পারেন।

লেখার মধ্যে বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করুন

বুলেট পয়েন্ট

বুলেট পয়েন্টের মাধ্যমে লেখার সারমর্ম উপস্থাপন করুন। এছাড়া বুলেট পয়েন্টের বেশ কয়েকটি সুবিধা হলঃ
• এর মাধ্যমে মুল কথা উপস্থাপন করা যায়
• যে কোন বিষয়ের সারমর্ম তুলে ধরা যায়
• জরুরী পয়েন্টগুলো একত্রিত করে রাখতে পারবেন
• লেখাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবেন
যে কোন পণ্য বিক্রয়ের জন্য যেভাবে আপনাকে লিখতে হবে
আপনাকে এমন ভাবে লিখতে হবে যাতে করে ভোক্তা পন্যটির প্রতি আগ্রহ বোধ করে এবং সেটা ক্রয় করতে ইচ্ছুক হয়। কিন্তু কিভাবে আপনি ভোক্তার মধ্যে এই আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে পারবেন? চিন্তার কিছু নেই আজকের আর্টিকেলের এই অংশে আমরা এই বিষয়ে কথা বলতে যাচ্ছিঃ
বারবার ক্রয় করার কথা বলবেন না

কি একটু অবাক হচ্ছেন? পণ্য বিক্রয় করতে এসেছেন অথচ পণ্য ক্রয়ের জন্য ভোক্তাকে বলবেন না? হ্য! ঠিক ধরেছেন। ভোক্তাকে পণ্য ক্রয়ের দিকে আপনি ঠেলে দিবেন কিন্তু সরাসরি পণ্য ক্রয় করতে বলবেন না। তাহলে কি বলবেন? এক্ষেত্রে আপনি বলতে পারেন এই পন্যটি ক্রয় করলে ভোক্তা কি ধরণের সুবিধা ভোগ করবে। এছাড়া আপনার পন্যটি অন্য সব পণ্য থেকে কেন আলাদা সে বিষয়েও বলতে পারেন।

আবার অন্য কোন ইউজারের অর্থাৎ ভোক্তার মন্তব্য বা ব্যবহারের পর ভালো রিভিউ সম্পর্কেও আপনি লেখার মধ্যে তুলে ধরতে পারেন। এই ধরণের কথার মাধ্যমে ভোক্তাকে আপনি সরাসরি পণ্য ক্রয়ের কথা না বললেও সেদিকেই নিয়ে যেতে পারবেন।

একদম ছোট্ট করে সেল পোস্ট এর হেডিং দিন
ফেসবুক বুস্ট এবং পোস্টের মাধ্যমে আপনি যদি আকর্ষণীয় ভাবে লেখা উপস্থাপন করতে চান তাহলে শুরুতেই মুল কথাটির মাধ্যমে অথবা আকর্ষণীয় ভাবে শুরু করতে হবে। যেমন ধরুন আপনি বিক্রয় করছেন পরিবেশ বান্ধব কোন পণ্য। তাহলে শুরুতেই বলে দিতে পারেনঃ এই পণ্য তৈরির সময় প্রকৃতির কোন ধরণের ক্ষতি সাধন করা হয়নি।

লেখার মাধ্যমে যেভাবে ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন
আপনি যা বলতে চান সেটা খুব সহজেই বলে দিন, এমনভাবে বলুন যাতে সেটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ভোক্তা কি আদৌ আপনার উপর আস্থা রাখছে কি না সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর ভোক্তার আস্থা অর্জন করার জন্য নানা কোম্পানি নানা ভাবে নিজেদের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে

আপনি যাই লেখুন না কেন আর যাই বিজ্ঞাপন দিন না কেন, আপনার ফেসবুক পেজটি খুব চমতকার ভাবে সাজানো গুছানো থাকতে হবে এবং একই সাথে আপনার পেজে বেশ ভালো এবং গুছানো পোস্ট দিতে হবে। আসুন তাহলে দেখে নেই, যে কয়েকটি উপায়ের মাধ্যমে আপনি ভোক্তার আরো কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারবেনঃ

শুধুমাত্র একবার ব্যবহার করা যাবে এমন কিছুর পেছনে অনেক সময় ব্যয় করবেন না
অবশ্য এক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নমত দেখা যায়, কেননা বেশ কিছু সোশ্যাল ট্রেন্ড রয়েছে যেগুলো আপনার সবসময় সাময়িক ভাবেই ফলো করতে হয়। যেমন উদাহরন স্বরূপ দেখলে দেখা যায়, কিছুদিন আগেই জাফরান দিয়ে তৈরি জিলাপির নাম জালেবি দিয়ে অনেক দামে বিক্রি করা হয় এবং এটা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ হইচই পরে যায় এবং অনেকেই ট্রেন্ড ফলো করে এই বিষয়ে কিছু না কিছু করেছেন।

তবে এখত্রে এটা বলা যেতে পারে, আপনার সোশ্যাল ক্যাম্পেইন এবং গুগুল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে এই ধরণের পোস্ট সাময়িক ব্যবহার করলেও খুব বেশি এগুলোর পেছনে সময় ব্যয় করবেন না বরং এমন ভাবে কিছু লিখুন যেটা আপনি পরবর্তীতেও ব্যবহার করতে পারবেন।

ব্যক্তিগত অভিমত লিখবেন না
যেমন ধরুন আপনি কখনই লেখার মধ্যে লিখবেন না যে আমার মতে এই বিষয়টি ঠিক এভাবেই হয়। বরং আপনি লিখুন যে অনেকেই এমনটা মনে করে থাকেন। এভাবে ব্যক্তিগত মতামতের উপর ভিত্তি করে কোন কিছু লিখলে সেটা দর্শক বা ভোক্তা খুব ভালো ভাবে গ্রহণ করতে পারে না।

তথ্য উপাত্ত্ব দিয়ে কোন লেখা খুব সহজেই গ্রহণ যোগ্যতা পায়

আপনার পন্যের কোন টেকনিক্যাল বিষয়ে যদি ভোক্তাদের জানা না থাকে, তাহলে সেটা নিয়ে লিখতে পারেন। এক্ষেত্রে টেকনিক্যাল লেখা ভোক্তা বুঝবে কি না এটা ভেবে বসে থাকবেন না। যেমন ধরুন গুড়ো দুধে অনেকেই মেলামিন মেশানোর অভিযোগ করে থাকেন, এক্ষেত্রে আপনার যদি গুড়ো দুধ পণ্য হয় তাহলে এপনি জানাতে পারেন যে আপনারা দুধে মেলামিন মেশান না। এখন এই ধরণের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো মানুষের কাছে তথ্য উপাত্ত্বের ভিত্তিতে প্রকাশ করতে পারেন।

মানুষের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করুন

সবসময় যে কোন কিছু লেখার সময় আপনি নিজেকে ভোক্তার আসনে বসিয়ে নিন। নিজের মত করে চিন্তা করুন যে আপনি যদি এখানে ভোক্তা হতে তাহলে কি আপনি কষ্ট করে এই লেখাটি পড়তেন কি না? যদি পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি সেই অনুযায়ী লিখুন। তা না হলে যেই বিষয় আপনি নিজেই আগ্রহি নন সেটা ভোক্তা আগ্রহী হবে এমনটা ভেবে অযথাই সময় নষ্ট করবেন না।

বাস্তবতার আলোকে লিখুন

অনেকেই বলে থাকেন যে কোন গল্পের মাধ্যমে লেখা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। এক্ষেত্রে আপনি গল্পের মাধ্যমে লিখতে পারেন, তবে লেখাটা অবশ্যই বাস্তব সম্মত হতে হবে। অলিক গল্পের মাধ্যমে আপনি যদি কোন লেখা লিখেন তাহলে ভোক্তা সেটাকে নিজের জীবনের সাথে রিলেট করতে পারবে না। আর তাই আপনার পন্যের ব্যপারেও তেমন একটা আগ্রহী হয়ে উঠবে না।

খুব আকর্ষণীয় কয়েকটি বাক্য গঠন করে হেড লাইনের ব্যবহার করেন

ঠিক যেমনটা আপনি দেখতে পারেন রবি সিমের বিজ্ঞাপনে, তারা সবসময় একটি কথা লিখে, সেটা হল “জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে”। ঠিক একই সাথে গ্রামীণ ফোনের ক্ষেত্রে দেখুন তারা ব্যবহার করে থাকে, “দূরত্ব যতই হোক কাছে থাকুন”। এমন ভাবেই আপনি নিজের জন্য একটি স্লোগান তৈরি করে নিন, এটা দীর্ঘ মেয়াদে আপনার জন্য দারুন প্রভাব ফেলবে।

এভাবেই বিভিন্ন ভাবে আপনি আকর্ষণীয় সব লেখার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন অথবা নিজের ফেসবুক ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে পারেন। লেখার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর পাশাপাশি এসইও নিয়েও আপনাকে মনোযোগী হতে হবে। বিশেষ করে আপনি যদি চান আপনার লেখাটি গুগুল সার্চ রেজাল্টে র‍্যাংক করুক তাহলে অবশ্যই বিভিন্ন ভাবে আপনাকে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করতে হবে।

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Top