ফেসবুক পেজ বানানো  কিছু নয় , আপনি যদি ফেসবুক প্রোফাইল তৈরী করতে পারেন তাহলে আপনাকে খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হবেনা। 

তবে তার আগে আপনাকে অবশ্যই পেজ এর জন্য লোগো ,কাভার পিকচার এগুলো রেডি রাখতে হবে।  এখন বসে পড়ুন আর মাত্র কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করেই তৈরী করে ফেলুন ফেবুক পেজ 

 আপনি হয়তো ভাবছেন কেন আমার ব্যবসার জন্য একটি পেজ দরকার ?? চলুন আপনাকে একটি মোটিভেট করি !! প্রতিমাসে প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে এবং ১৪০ মিলিয়ন ব্যবসাহি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে তাদের কাস্টমারের কাছে তাদের পণ্যের মার্কেটিং করার জন্য। 

কিভাবে ফেসবুক বিজনেস পেজ বানাবেন ??

বিজনেস পেজ   বানানোর জন্য প্রথমে আপনার প্রোফাইল এ ঢুকতে হবে।  তবে চিন্তার কোন কারণ নেই আপনার প্রোফাইল এর কোন কিছু বিজনেস পেজ এ  যাবেনা।  তাই এখনই আপনার প্রোফাইল এ

ঢুকে পড়ুন আর পেজ    ক্রিয়াসন অপশন ক্লিক করুন :

সাইন আপ :

Go to facebook.com/pages/create.

বিজনেস টাইপ সিলেক্ট করুন বিজনেস / ব্র্যান্ড অথবা কমিউনিটি / পাবলিক ফিগার কোন ধরণের পেজ বানাবেন , আজকে আমরা বিজনেস /ব্র্যান্ড  বানাবো তাই বিজনেস ব্র্যান্ড ছবির নিচের “Get Started” বাটনটি ক্লিক করুন

   তারপর আপনার বিজনেস এর নাম অথবা ব্র্যান্ড এর নাম মানে যে নামে মানুষ   খুঁজবে।  নাম   দেয়ার পর ক্যাটাগরি অপশন এ একটা বা দুইটা ওয়ার্ড দিলেই আপনাকে সাজেস্ট করবে আপনাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরি , এরমধ্যে থেকে আপনি আপনার টি বাছাই করে নিতে পারবেন।  অবশ্য পরে চাইলে আপনি আওরও ক্যাটাগরি এড করতে পারবেন। 

ক্যাটাগরি সিলেক্ট করার  পর আপনাকে   আরও কিছু ইনফমেশন দিতে হবে এই যেমন ঠিকানা , ফোন নাম্বার তবে আপনি চাইলে ঠিকানা হাইড করে রাখতে পারেন। 

তারপর কন্টিনিউ বাটন ক্লিক করুন , তবে তার আগে ফেসবুকের টার্মস এন্ড কন্ডিশন আপনাকে চেক করে নিতে হবে। 

স্টেপ ২ :

ছবি সংযুক্ত করুন

আপনি তারপর আপনার পেজ এ প্রোফাইল পিকচার এবং কাভার পেজ  আপলোড করুন ,  এই ছবি গুলোই আপনার ফাস্ট – ইম্প্রেশান তাই আপনার ব্র্যান্ড কে রিপ্রেসেন্ট করে এমন লোগো এবং কাভার পেজ দিন। 

প্রথমে  প্রোফাইল  এর ছবি   দিন ,মনে রাখবেন এই প্রোফাইল  পিকচার খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ কেউ যখন আপনার পেজ সার্চ করবে তখন প্রথমে এই প্রোফাইল পিকচার দেখে  আপনাকে চিনবে। 

সেক্ষেত্রে আমি বলবো  আপনি যদি ভালো ব্র্যান্ড হয়ে থাকেন তাহলে আপনার লোগো ব্যবহার করে ভালো কিন্তু আপনি যদি সেলিব্রিটি হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার ছবি ব্যবহার করবেন।  তাছাড়া লোকাল বিজনেস হলে যে চিহ্ন বা ছবি টি আপনাকে চিনতে সাহায্য করবে সেটি ব্যবহার করে ভালো। 

ফেসবুক প্রোফাইল  পিকচার সাধারণত বৃত্তাকার হয়ে থাকে তাই এটি এমন ভাবে বানাবেন যাতে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বাদ না পরে বা গুরুত্বপূর্ণ ইনফমেশন এক সাইড এ না পড়ে। 

প্রোফাইল পিকচার  আপলোড হয়ে গেলে তারপর যে জিনিসটি গুরুত্বপূর্ণ আর তা হলো কাভার পেজ , এই কাভার পেজ আপনার ব্র্যান্ড পার্সোনালিটি কে রিপ্রেসেন্ট করে।  কাভার পেজ সাইজ : ৭২০ *৩১৫

স্টেপ ৩ :

ইউসার নাম তৈরি করুন ??

আপনার পেজ এর এই একমাত্র জিনিসটি ইউনিক।  এটি ৫০ ক্যারেক্টার পর্যন্ত হতে পারে।  আপনার পেজ এর নামের সাথে মিলিয়ে ইউসার নাম বানানো সর্বোত্তম পন্থা। 

 স্টেপ ৪ : ব্যবসার বিস্তারিত লিখুন

কেউ যখন আপনার পেজটি দেখবে স্বভাবতই সে আপনার ব্যবসার সম্পর্কে জানতে চাইবে তাই বিজনেস ডিটেলস সেকশান এ আপনার ব্যবসার বিস্তারিত দিন , কেনাবেচার সময় কিংবা কতক্ষন খোলা থাকে ইত্যাদি। 

ডেসক্রিপ্সান :

২৫৫ ওয়ার্ডের মধ্যে একটি শর্ট ডেসক্রিপ্সান দিন , মনে রাখবেন এই সীমিত ওয়ার্ডের মধ্যে আপনার ব্যবসার বিস্তারিত দিয়ে সবাইকে আপনার সম্পর্কে জানাতে হবে

ক্যাটাগরি :

এই ক্যাটাগরি  খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর উপর ভিত্তি করে ফেসবুক আপনার পেজ কে প্রেসেন্ট করবে। 

কন্টাক্ট :

যোগাযোগের জন্য আপনার ফোন নাম্বার , ইমেইল , ওয়েবসাইট এর ঠিকানা দিন। 

লোকেশন :

আপনার বিজনেসের যদি স্টোর থাকে তাহলে অবশ্যই সেটির লোকেশান পিন করে দিন যাতে সবাই খুব সহজে আপনার ঠিকানায় পৌঁছাতে পারে। 

সময় :

আপনার প্রতিষ্ঠান কয়টা থেকে কয়টা পর্যন্ত খোলা থাকে সেটি উল্লেখ করুন। 

অতিরিক্ত :

প্রাইভেসি পলিসি , প্রাইস রেঞ্জ ইত্যাদি যদি থাকে অন্তর্ভুক্ত করুন।

ক্লিক সেভ চেঞ্জেস অপশন ক্লিক করুন :

স্টেপ ৫ :

নিজের বিজনেস সম্পর্কে বিস্তারিত লিখুন :

ইতিমধ্যে আপনি আপনার বিজনেসের ছোট ছোট ইনফমেশন গুলো দিয়েছেন  কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয় আপনাকে আরও কিছু বিস্তারিত লিখতে হবে যেমন আপনার প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস নিয়ে কিছু বিস্তারিত লিখতে হবে।

 About সেকশান এ our story (ডান পাশে ) ক্লিক করে নিজের ব্যবসার বিস্তারিত লিখুন।  এই সেকশান এ আপনি আপনার প্রোডাক্ট এর বিবরণী , কাস্টোমারদের জন্য কি অফার করবেন সেসব বিস্তারিত দিতে পারবেন। 

আপনাকে বিজনেস কে রিপ্রেসেন্ট করে এরকম একটি ছবি দিন তারপর পাবলিশ বাটন ক্লিক করুন। 

স্টেপ ৬ :

আপনার পেজ এ    সবাইকে ইনভাইট করার আগে একটা কিংবা দুইটা পোস্ট করে নিবেন তাহলে সবাই জানতে পারবে আসলে আপনি কি নিয়ে বিজনেস 

 করবেন।  পোস্ট গুলো  দিয়ে ভালোভাবে করবেন যাতে সবাইকে আকর্ষণ করে। 

আপনি চাইলে ইভেন্ট অফার  এ জাতীয় স্পেসিফিক পোস্ট  ও করতে পারেন

.

স্টেপ ৭ :

আপনার ফেসবুক বিজনেস পেজ আপনার ব্যবসাকে   নিশ্চিত ভাবে একটি অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে।  বাম  পাশের  পাবলিশ বাটন ক্লিক করুন। 

কংগ্রাচুলেশন্স আপনার পেজ লাইভ  হয়ে গিয়েছে এখন আপনি সবাইকে ইনভাইট করে দিন এবং আপনার ওয়েবসাইট , ইউটিউব চ্যানেল এগুলো সব এড করে দিন।

আরও পড়ুন :

ফেসবুক বুস্টিং : আপনিও এখন সহজে করতে পারবেন !

ফেসবুক ভিডিও মার্কেটিং করে রিচ বাড়ানোর কার্যকরী কৌশল সমূহ !!

ফেসবুক ভিডিও মনিটাইজেশন থেকে আয় করবেন কিভাবে ?

ফেসবুক বুস্ট VS ক্যাম্পেইন : তুলনামূলক আলোচনা

ফেসবুক কনটেন্ট স্ট্র্যাটিজি বিষয়ে কার্যকর টিপস !

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

2 thoughts on “কিভাবে সহজ ৭ টি ধাপে ফেসবুক পেজ বানাবেন

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Back to Top