আপনি হয়ত কোন একটি বিষয় নিয়ে খুব ভালো জানেন, আর সেই বিষয় নিয়ে নিজের একটি ওয়েবসাইট থাকলে অনলাইন থেকে অনেক অর্থও উপার্জন করা সম্ভব। এমন অনেকেই আছেন যে ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রচুর ঝড় ঝঞ্ঝাট পোহাচ্ছেন।

কেননা, হয়ত আপনি অনেক ব্যস্ততার মধ্যে আছেন। আর এত ব্যস্ততার মধ্যে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শিখে নিজেই নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করা আপনার জন্য এতটা সহজ নয়। আর তাই ঠিক আপনার জন্যই আজকে এই আর্টিকেলে আলোচনা করব কীভাবে একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব সহজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে অনলাইনে অর্থ উপার্জন শুরু করতে পারবেন। 

ডোমেইন হোস্টিং ব্ল্যাক ফ্রাইডে অফার 

ওয়েবসাইটের প্ল্যাটফর্ম নির্বাচনঃ

তবে শুরু করার আগে কোন প্লাটফর্মে আপনার ওয়েবসাইটটি তৈরি করবেন, সেটা নিয়েও তো একটু ভাবনার আছে, ঠিক না? বর্তমান সময়ে অনলাইনে ওয়ার্ডপ্রেস, উইক্স, জুমলা, ড্রুপাল সহ আরো অনেকগুলো প্লাটফর্ম আছে, যেখানে আপনি নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। 

একদম নিজে থেকে পুরো ওয়েবসাইট কোডিংয়ের মাধ্যমেও তৈরি করে নিতে পারেন, তবে দুটি কারণে সেদিকে না যাওয়াই ভালো। প্রথমত এতে আপনার প্রচুর সময় নষ্ট হবে, আবার সব শেষে যেহেতু একা একা কাজ করছেন তাই হয়ত মাঝারি মানের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। যেটা থেকে আপনি খুব ভালো সার্ভিস তেমন একটা পাবেন না। 

কোর্স ফি মাত্র ৪৫০ টাকা

ওয়েবসাইট প্লাটফর্মগুলোর মধ্যে আপনি কোনটি সিলেক্ট করবেন? 

Builtwith কর্তৃক তৈরি নিচের পরিসংখ্যানটির দিকে এক নজর চোখ দিলেই হয়ত আপনি এর উত্তর পেয়ে যাবেন। 

কোন প্ল্যাটফর্মের ওয়েবসাইট নিয়ে আপনি কাজ করবেন তার পরিসংখ্যান

Source: Buildwith.com

উপরের এই গ্রাফে আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে, ২০১৯ সালে সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস। এরপর উইক্স, জুমলা সহ আরো অন্যান্য অনেক প্ল্যাটফর্ম মানুষ ব্যবহার করে থাকলেও সেগুলোর জনপ্রিয়তা ওয়ার্ডপ্রেসের তুলনায় কিছুই না। 

ওয়ার্ডপ্রেসের এই বহুল জনপ্রিয়তার পেছনে কারণ হল এটি ব্যবহার একদমই সহজ, যার ফলে এই প্ল্যাটফর্মটি যে কেউই ব্যবহার করতে পারবে। তবে সহজ বলে একে ঠুনকো ভাবার কোন কারণ নেই কেননা ছোটখাটো বিজনেসের ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে বড় বড় ই-কমার্স সাইটও এই ওয়ার্ডপ্রেসেই তৈরি করে ফেলা যায়। 

একবার একটু ভেবে দেখুন HTML আর CSS শিখে এরপর PHP দিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা শিখতে আপনার অন্তত বছর খানেকের বেশি লেগে যেতে পারে। অপরদিকে ওয়ার্ডপ্রেসে আপনি এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারবেন। 

আবার বিকল্প উপায় হিসেবে বিভিন্ন ওয়েবসাইট বিল্ডার আছে, তবে সুবিধার তুলনায় এগুলো বেশ দামী। এদিকে আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে জুমলার তুলনা করে দেখেন, তাহলে খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে ওয়ার্ডপ্রেস প্ল্যাটফর্মটি জুমলার তুলনায় অনেক সহজেই ব্যবহার করা যায়। 

ওয়েবসাইট বানানোর পর্যায়ক্রমিক ধাপসমূহঃ

আর তাই যারা কোন কোডিং জানেন না, তাদের জন্য সবচাইতে সহজ উপায় হল ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করে নেয়া। আসুন দেখে নেয়া যাক কীভাবে আপনি নিজের ওয়েবসাইট নিজেই তৈরি করে নিতে পারবেনঃ 

প্রথম ধাপঃ হোস্টিং এবং ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন 

ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রথমেই যে দুটি জিনিস আপনার প্রয়োজন হবে, সেগুলো হল ডোমেইন অর্থাৎ ওয়েবসাইটটির নাম এবং অনলাইনে রাখার জন্য একটি ভালো হোস্টিং।

আপনার ওয়েবসাইটে রাখা ছবি সহ সকল তথ্য অনলাইনে তুলে রাখার জন্য আপনাকে একটি হোস্টিংয়ের সাহায্য নিতে হবে। হোস্টিং বলতে মূলত বুঝানো হয় অনলাইনে একটি জায়গা কিনে নেয়া, যে যায়গায় আপনি নিজের ওয়েবসাইট রাখতে পারবেন। 

যে কোন ফ্রি ডোমেইনের মাধ্যমে ওয়েবসাইট তৈরি করার থেকে নিজের আলাদা নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নেয়াই ভালো। কেননা এটা আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে অনেক প্রফেশনাল একটি লুক এনে দিতে পারে। বেশীরভাগ সাধারণ ডোমেইনের মূল্য বাৎসরিক মাত্র ১৪ থেকে ১৫ ডলারের মত। 

হোস্টিং এবং ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে ওয়েবসাইট তৈরি করার সর্ব প্রথম ধাপ

এখন যে প্রশ্নটি আপনার মনে মধ্যে উঁকি দেয়া শুরু করেছে, সেটা হল–কোথা থেকে এই ডোমেইন নাম এবং হোস্টিং কিনবেন? 

ওয়েবসাইট ইন্সটল

এখানে একটি কথা বলে নেয়া ভালো যে, আমি বিভিন্ন সার্ভিস ব্যবহার করেছি এবং ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে যেটা সবচাইতে ভালো লেগেছে সেটাই আমি আপনাদের সাজেস্ট করব। 

বেশীরভাগ সময়েই ডোমেইন নাম এবং হোস্টিং কেনার জন্য আমি Bluehost নামক এই ওয়েবসাইট থেকে নিয়ে থাকি। একদম প্রাথমিক ভাবে তাদের প্রাইজ শুরু হয় মাসে ২.৭৫ ডলার দিয়ে, আর এর মধ্যেই তারা একটি ডোমেইন ফ্রি দিচ্ছে আপনাকে! সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এই সাইটে একটু উঁকি দিয়ে দেখাই যায়! 

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনঃ 

চাকরি কিংবা ব্যবসার বাইরে অনলাইনে আয়ের উপায় !

Bluehost কোম্পানিটি বর্তমানে সবচাইতে জনপ্রিয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নাম। আর তাই নিজেদের এই জনপ্রিয়তা ধরে রাখার জন্য তারা আপনার জন্য সবচাইতে সেরা সার্ভিসটিই দিয়ে যাবে। 

এছাড়াও এই কোম্পানিটির বেশীরভাগ সার্ভারই ইউএস অর্থাৎ আমেরিকান এবং তারা বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ ভিজিটর সামাল দিতে সক্ষম। আর আপনার স্থানীয় হোস্টিং প্রোভাইডারদের থেকে এটা বেশ সাশ্রয়ী।

মনে রাখবেন, স্থানীয় হোস্টিং প্রোভাইডাররা এই ধরনের বড় বড় কোম্পানি থেকেই হোস্টিং কিনে নিয়ে আবার নিজেরাই সেগুলো আপনাদের কাছে বিক্রি করে। তাই স্থানীয়দের কাছ থেকে না কিনে বরং বড় কোম্পানিটির কাছ থেকেই কিনুন এবং সেরা মানের সার্ভিস উপভোগ করুন। 

আসুন তাহলে দেখে নেই কীভাবে পর্যায়ক্রমে প্রোভাইডারদের থেকে হোস্টিং ও ডোমেইন কিনে নিতে হয়ঃ 

১। প্রথমেই Bluehost এর ওয়েবসাইটে  চলে যান

উল্লেখ্য যে, যেহেতু আমি ব্যক্তিগত ভাবে দীর্ঘদিন ধরেই এই হোস্টিং কোম্পানিটির সাথে কাজ করে আসছি তাই ব্যক্তিগত ভিজিটরদের জন্য আমি কিছুটা ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করেছি। আমার দেয়া এই Bluhost লিংকের মাধ্যমে ওয়েবসাইট থেকে কিনলে আপনি কিছুটা কম দামেই তাদের সেবা উপভোগ করতে পারবেন। 

২। আপনার পছন্দের প্যাকেজটি বেছে নিন

আপনি যখনই এই ওয়েবসাইটের “Get Stared Now” বাটনে ক্লিক করবেন তখন আপনাকে তিনটি প্যাকেজের মধ্যে বেছে নিতে বলা হবে। আর সেগুলো হলঃ 

>> Basic 

>> Plus

>> Choice Plus 

আপনি যদি কিছুটা কম দামের মধ্যে নিতে চান তাহলে এখান থেকে “Basic” প্যাকেজটি বেছে নিতে পারেন। ছোটোখাটো ব্যবসা এবং অল্প ভিজিটরের ব্লগ অথবা ওয়েবসাইটের জন্য এই হোস্টিং প্যাকেজটি খুবই চমৎকার। 

তবে আপনার ওয়েবসাইটটিতে যদি একদম শুরু থেকেই প্রচুর ভিজিটর আসবে বলে আমি জেনে থাকেন তাহলে ব্যক্তিগত ভাবে পরামর্শ হল আপনি এই কোম্পানি থেকে “Choice Plus” প্ল্যানটি বেছে নিন। কেননা এটি সত্যিই একদম অতুলনীয়, যত খুশি ট্রাফিক আসুন আপনার ওয়েবসাইটের কোন ধরনের সমস্যাই হবে না। 

তবে মনে রাখবেন আপনি যেই প্যাকেজটিই পছন্দ করে থাকেন না কেন, আপনি যে কোন সময়েই তাদের প্যাকেজগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। 

৩। নিজের ডোমেইন নামটি পছন্দ করে নিন

আপনার যদি ডোমেইন নেম কেনা না থাকে তাহলে এখুনি নিজের ওয়েবসাইটের জন্য একটি ডোমেইন নেম কিনে নিন। 

আপনি যদি নিজের কোম্পানির নামে ওয়েবসাইট খুলতে চান তাহলে দেখে নিন আপনার কোম্পানির নামের সাথে মিল আছে এমন কোন ডোমেইন ফাঁকা আছে কি না।

আবার নিজের নামের সাথে অথবা ব্লগটি যে উদ্দেশ্যে খোলা হয়েছে তার সাথে মিল রেখে কিনতে পারেন। যেমন Travelwitharif.com অথবা iamarif.com অথবা arifscompany.com । আশাকরি বুঝেই গেছেন কীভাবে আপনার পছন্দের ডোমেইন নামটি বাছাই করে নিবেন। 

ডোমেইন নামগুলো সাধারণত শেষ হয় .com , .org, অথবা .net দিয়ে। তবে বর্তমান সময়ে মানুষ এতটাই অনলাইন মুখি হয়ে গিয়েছে যে আপনার নামের সাথে মিল রেখে এই ধরনের ডোমেইন ফাঁকা পাওয়া বেশ কষ্টকরই বটে।

আমরা পরামর্শ দিব .com , .org অথবা .net এই ধরনের ডোমেইন বাছাই করার জন্য। তবে বর্তমানে অনেক নতুন ধরনের এক্সটেনশন চালু হয়েছে, যেমন .pizza .agency ইত্যাদি। আর তাই এগুলো যদি আপনার ব্যবসা অথবা ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্যের সাথে একদম মিলে যায় তাহলে নিয়ে নিতে পারেন। 

লক্ষণীয়ঃ

আপনার যদি ইতোমধ্যেই ডোমেইন নেম কেনা হয়ে থাকে তাহলে পাশের “I have a domain name” এ ক্লিক করে দিন। আবার আপনি হোস্টিং কেনার পরেও চাইলে ডোমেইন নামটি ভেবে চিন্তে বেছে কিনতে পারেন। সে জন্য আপনাকে ক্লিক করতে হবে নিতে “Choose later” নামক ছোট্ট বাটনটিতে। 

৪। আপনার একাউন্টের তথ্যাবলির ফর্মটি পূরণ করে নিন 

নিজের একটি একাউন্ট তৈরি করার জন্য আপনার ব্যক্তিগত বেশকিছু তথ্য এই ফর্মে পূরণ করতে হবে। আর তার জন্য “Create your account” পেজটি ওপেন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। 

এই ফর্মে আপনার নামের প্রথম অংশ এবং শেষ অংশ, দেশ, ঠিকানা, শহর,পোস্টকোড, ফোন নাম্বার এবং সবশেষে ইমেইল এড্রেসের ঘরগুলো সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করে নিন। আপনার ক্রয়ের রসিদ আপনাকে ইমেইলের মাধ্যমে পরবর্তীতে পাঠিয়ে দেয়া হবে। এছাড়া আপনি চাইলে আপনার ব্যবসার নামটিও এই ফর্মে উল্লেখ করে দিতে পারেন, তবে না হলেও চলবে। 

আপনি যেভাবে পেমেন্ট করতে চান সেই তথ্যগুলোও দিয়ে পরবর্তী ধাপের দিকে এগিয়ে যান। 

৫। যে প্যাকেজটি নিচ্ছেন সেটা সিলেক্ট করে নিন এবং রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন

আপনার একাউন্ট তৈরি করার জন্য এটিই শেষ ধাপ। মনোযোগ সহকারে তথ্যগুলো দেখে একাউন্ট তৈরি করুন। 

আপনি যদি “Choice Plus” প্যাকেজটি বেছে নিয়ে থাকেন তাহলে এরসাথে আপনি পাবেন আপনার ডোমেইনের প্রাইভেসি এবং ব্যাসিক কোডগার্ড। আবার আপনি যদি চান আপনার ডোমেইন সম্পৃক্ত সকল তথ্য অনলাইন থেকে লুকানো থাকবে তাহলে আলাদা করে “Domain privacy protection” কিনে নিতে হবে। 

৬। Bluehost এর একাউন্টের জন্য আপনা পাসওয়ার্ডটি দিয়ে দিন

পেমেন্ট এবং রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই আপনি নিজে একাউন্টের জন্য পাসওয়ার্ড সেট করে নিতে পারবেন। 

দ্বিতীয় ধাপঃ আপনার ওয়েবসাইটটি সেট-আপ করে নিন 

পূর্ববর্তী ধাপ অনুসরণ করে আপনি হয়ত ইতোমধ্যেই ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনে নিয়েছেন। এখন তাহলে আসুন জেনে নেই কিভাবে সেই ডোমেইন এবং হোস্টিংয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি নিজের ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারবেন। প্রথমেই আপনার ডোমেইনে ওয়ার্ডপ্রেস প্লাটফর্মটি ইন্সটল করে নিতে হবে।  

ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল 

ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার দুইটি পদ্ধতি রয়েছে, তারমধ্যে একটি অপর পদ্ধতি থেকে অপেক্ষাকৃত অনেক সহজ যা কি না আপনি নিজে থেকেই করে নিতে পারবেন। 

১। এক ক্লিকেই আপনার ওয়েবসাইটে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিন 

বেশীরভাগ জনপ্রিয় হোস্টিং প্রোভাইডারদেরই এক ক্লিকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার অপশন থাকে, যাতে করে এই বিষয়ে কোন কিছু জানা না থাকলেও যে কেউ ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিতে পারে। 

আমরা যেহেতু Bluehost থেকে আমাদের ডোমেইন এবং হোস্টিং কিনেছিলাম, তাই এখন এই কোম্পানিটির সুবিধা নিয়েই বলব। তবে যে কোন হোস্টিং প্রোভাইডারদের থেকে কিনলেও আপনি আপনার একাউন্টের কনট্রোল প্যানেলে এক ক্লিকের মাধ্যমে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার অপশনটি খুঁজে পাবেন। 

আসুন তাহলে জেনে নেই ঠিক কি কি ধাপ অনুসরণের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হবেঃ 

>> আপনার Bluehost একাউন্টে লগইন করুন

>> Control panel এ যান 

>> WordPress অথবা website আইকনটি খুঁজে বের করুন

>> যে ডোমেইনে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে চান সেটি সিলেক্ট করে নিন

>> Install now বাটনে ক্লিক করে নিন

এক ক্লিকেই ওয়েবসাইটে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার পদ্ধতি

২। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল 

আপনি যদি Bluehost অথবা এই ধরনের কোন হোস্টিং প্রোভাইডারদের থেকে না কিনে থাকেন তাহলে আপনাকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে একটি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার গাইড অনুসরণ করতে হবে। এই আর্টিকেলে ম্যানুয়াল পদ্ধতি নিয়ে আর কোন আলোচনা করব না, কেননা এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত লেখা হবে। তাই আপাতত সহজ পদ্ধতিতে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলের ধাপটি অনুসরণ করুন।   

তবে মনে রাখবেন, যদি আপনার হোস্টিং প্রোভাইডারের কাছে এক ক্লিকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল না থাকে তাহলে বুঝে নিতে হবে তাদের সার্ভিস তেমন একটা ভালো না। যদি সম্ভব হয় “Bluehost” থেকেই কিনে নিন তাহলে অতটা ঝামেলা পোহাতে হবে না। 

তৃতীয় ধাপঃ সাইট ডিজাইন করবেন কিভাবে

ওয়েবসাইট ডিজাইন স্বতন্ত্র ভাব থাকলে ভিজিটর দের কাছে তা আকর্ষণীয় দেখায়

আপনার ডোমেইনে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করার পর দেখবেন সাইটে বেসিক একটা থিম ইন্সটল করা আছে। এই থিমে বেসিক কিছু মেনু, পোস্ট এবং ছবি থাকবে। এবার আপনার সাইটটিকে নিজের মনের মতো করে ডিজাইন করার পালা। 

ওয়ার্ডপ্রেস থিম (WordPress Theme)

নিজের মনের মতো করে সাইট ডিজাইন করতে চাইলে প্রথমেই আপনার দরকার হবে একটি সুন্দর থিমের। ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্য পেইড এবং ফ্রি দুই ধরণের থিম ব্যবহার করা যায়।

আপনি ইনস্টল করতে পারেন এমন একটি ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস থিমের একটি উদাহরণ দেখুন- 

অসংখ্য ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস থিম রয়েছে ওয়েব সাইটে ব্যবহার করার জন্য

ওয়ার্ডপ্রেস থিম স্টোরে ১৫০০+ প্রফেশনালি ডিজাইন করা অসাধারণ থিম রয়েছে। এগুলো থেকে যে কোন একটা আপনি ব্যবহার করতে পারেন এবং ভিজিটরদের কাছে আপনার সাইট আরও দারুণভাবে উপস্থাপন করতে ইচ্ছামতো কাস্টোমাইজ করতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, ওয়ার্ডপ্রেস থিম স্টোরে অধিকাংশ ওয়ার্ডপ্রেস থিম-ই ফ্রি এবং হাইলি কাস্টোমাইজেবল। 

কিভাবে নিজের পছন্দমতো একটি থিম খুঁজে বের করবেনঃ

এবার আলোচনা করবো কিভাবে আপনি আপনার সাইটের জন্য পছন্দমতো থিম খুঁজে বের করবেন এবং ইন্সটল করবেন। 

১। ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশ-বোর্ডে লগইন করুন

প্রথমেই আপনাকে আপনার সাইটের ড্যাশবোর্ড অর্থাৎ ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ডে লগইন করতে হবে। যারা জানেন না কিভাবে ড্যাশবোর্ডে লগইন করতে হয় তাদের জন্য- 

আপনার ব্রাউজারের URL বারে https://yoursite.com/wp-admin (yoursite.com এর জায়গায় আপনার ডোমেইন নামটি লিখুন) টাইপ করুন। তারপর ইউজার-নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। ব্যাস হয়ে গেলো, চলে এলেন ড্যাশবোর্ডে। ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড দেখতে এরকম-

ওয়ার্ডপ্রেসের ড্যাশবোর্ডের নমুনা চিত্র

ওয়ার্ডপ্রেসের ড্যাশবোর্ডে সবকিছু খুব সুন্দরভাবে সাজানো গোছানো আছে। তবুও কোনকিছু দেখে যদি আপনার খটকা লাগে তবে ঘাবড়াবেন না। ধাপে ধাপে সবকিছুই আপনাকে শিখিয়ে দেওয়া হবে। 

২। ফ্রি থিম এক্সেস করুন

ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড পর্যন্ত ঠিকঠাক ভাবে আসতে পারার মানেই হল আপনি ১৫০০+ থিমের ফ্রি এক্সেস পেয়ে গেছেন। বাঁপাশের সাইড বারে “Appearance” থেকে “Themes” অপশনটিতে ক্লিক করুন। 

তবে আপনি আরও প্রফেশনাল কিছু করতে চান অর্থাৎ সাইটের লুক, ভিউ এবং ডিজাইনে আরও প্রফেশনাল লুক  আনতে চান তাহলে থিমফরেস্টের থিমগুলো ট্রাই করতে পারেন।

থিমফরেস্ট (themeforest) থেকে আপনি ভিন্ন ভিন্ন দামে অসংখ্য প্রফেশনাল এবং হাইলি কাস্টোমাইজেবল থিম পেয়ে যাবেন। তবে আপনি যেহেতু একেবারেই নতুন তাই আপনার প্রতি একটা উপদেশ, আগে ওয়ার্ডপ্রেসের ফ্রি থিমগুলো একটু নেড়েচেড়ে দেখুন, ধারণা নিন। অভিজ্ঞতা বাড়লে তারপর পেইড থিম নিয়ে কাজ করতে তেমন অসুবিধা হবে না। 

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনঃ 

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে অনলাইনে আয় করবেন ?

আর ওয়ার্ডপ্রেসের ফ্রি থিমগুলোও অসাধারণ। কিছু কিছু ফ্রি থিম আছে যেগুলোর লুকিং/ডিজাইন পেইড থিমের থেকেও অনেক সুন্দর এবং অনেক প্রফেশনালি ডিজাইন করা। সুতরাং আগে ফ্রি থিমগুলো দিয়েই শুরুটা করুন। 

ওয়ার্ডপ্রেসের ফ্রি থিমের নমুনা চিত্র

উপরের স্ক্রিনশটটি ভালো করে দেখুন। ওয়ার্ডপ্রেসে নতুন থিম ইন্সটল করা খুব সহজ একটি কাজ। উপরের সার্চ বার থেকে আপনি আপনার পছন্দমতো কিওয়ার্ড লিখে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন অথবা ক্যাটাগরি অনুসারে থিম ফিল্টার করে খুঁজতে পারেন। ফিল্টার অপশন থেকে আপনই রেসপন্সিভ অপশন সিলেক্ট করে মোবাইল এবং ডেস্কটপে আলাদা আলাদা ভার্সন দেখাবে যা থেকে আপনি থিম খুঁজে বের করতে পারবেন। 

আপনার সাইটের ধরণ এবং ডিজাইন অনুযায়ী পারফেক্ট থিম খুঁজে পেতে শুরুতে আপনার অনেকটা সময় বেশি লাগতে পারে। তবে ধৈর্য হারা হবেন না। পারফেক্ট থিমটি খুঁজে বের করুন। 

৩। নতুন থিম ইন্সটল করুন

আগেই বলেছি ওয়ার্ডপ্রেসে নতুন থিম ইন্সটল করা খুব সহজ কাজ। আপনার পছন্দমতো থিমটি খুঁজে পেলে “Install” এ ক্লিক করুন। একটু সময় নিবে ইন্সটল হতে। ইন্সটল হয়ে গেলে “Install” এর জায়গায় “Activate” অপশনটি দেখাবে। “Activate” অপশনে ক্লিক করুন। ব্যাস! কাজ হয়ে গেলো। হ্যাঁ, আপনি সফলভাবে নতুন থিমটি ইন্সটল করতে পেরেছেন। 

ওয়ার্ডপ্রেসে নতুন থিম ইন্সটল করার নমুনা চিত্র

নোটঃ নতুন থিম ইন্সটল করলে আপনার সাইটের পুরাতন ছবি, পোস্টসহ কোন কন্টেন্টই ডিলিট হবে না। শুধু সাইটের ডিজাইন এবং লে-আউট পরিবর্তিত হবে। সুতরাং কোন ফাইল হারানোর ভয় ভ্যানিশ করে দিয়ে আপনি চাইলেই যে কোন মুহূর্তে নতুন থিম ইন্সটল করতে পারবেন। 

চতুর্থ ধাপঃ আপনার সাইটে কনটেন্ট যোগ করুন

থিম ইন্সটল হয়ে যাওয়ার পর আপনার সাইটে কনটেন্ট এড করার জন্য উপযোগী হয়ে যাবে। আসুন এবার কিছু বেসিক ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করি, কিভাবে আপনি আপনার সাইটে কনটেন্ট এড করবেন। 

পেজ এড এবং এডিটিং করুন

এবার আপনার সাইটে পেজ এড করার পালা। আমাদের ওয়েবসাইটের উপরে যেরকম মেনুতে যেরকম পেজ আছে এরকম পেজ কিভাবে তৈরি করবেন আসুন দেখে নিই- 

১।  ড্যাশবোর্ডের বাম পাশের সাইডবার থেকে “Pages” অপশনের উপর মাউসের কার্সার রাখলেই “Add New” অপশন দেখতে পাবেন। এখানে ক্লিক করুন। 

২। ক্লিক করার পর নিচের স্ক্রিনশটের মতো একটা পেজ ওপেন হবে। এখানে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের মতো অনেকগুলো অপশন দেখতে পাবেন। আপনার পেজে যেসব কনটেন্ট আপনি রাখতে চান অর্থাৎ, ছবি, লেখা এবং যা যা দরকার এড করে নিন। উপরের বক্সে পেজের নাম দিতে অবশ্যই ভুলবেন না। তারপর সেভ দিয়ে “Publish” করে দিন। এভাবে যতোগুলো পেজ আপনার দরকার এড করে দিন। 

ওয়েবসাইটে কি ভাবে পেজ এড করবেন ?

পেজগুলো মেনুতে এড করুন

আপনার ক্রিয়েট করা পেজগুলোর মধ্যে যেগুলোকে আপনি ন্যাভিগেশন মেনুতে দেখাতে চান সেগুলোকে ন্যাভিগেশন মেনুতে এড করবেন কিভাবে আসুন দেখে নিই। 

১। পেজে নতুন কোনকিছু এড করার থাকলে এড করে আপডেট বাটনে ক্লিক করে দিন। 

২। ড্যাশবোর্ডের বাম পাশে সাইডবারের “Appearance” থেকে “Menus” অপশনে ক্লিক করুন। 

৩। এবার আপনার যে পেজগুলোকে মেনুতে এড করতে চান সেগুলোতে টিক চিহ্ন দিয়ে দিন। উপরের বক্সে মেনুর নাম দিয়ে সেভ করে দিন। 

ওয়েবসাইটের পেজগুলো মেনুতে এড করার ধাপসমূহ

পোস্ট এড এবং এডিট করুন

আপনার ওয়েবসাইটে যদি ব্লগ রাখতে চান তাহলে এই অংশটুক মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। বিভিন্ন টাইপের পোস্টগুলোকে আলাদা করতে আপনাকে আলাদা আলাদা ক্যাটাগরি তৈরি করতে হবে। 

ওয়েবসাইটে বিভিন্ন পোষ্টের জন্য ক্যাটাগরি তৈরি বেশ অর্থবহ

ধরুন, আপনার সাইটের ব্লগে “ব্লগিং” নিয়েই একটি পোস্ট করবেন। শুরুতেই আপনাকে “ব্লগিং” নিয়ে করা সবগুলো পোস্টকে আলাদা করে এক জায়গায় রাখতে “Blog” নামে (আপনার পছন্দমতো বা সাইটের ধরণ অনুযায়ী যে কোন নাম দিতে পারেন) একটি ক্যাটাগরি ক্রিয়েট করতে হবে। তারপর ক্যাটাগরিটি মেনুতে এড করে দিন। ব্যাস হয়ে গেলো আপনার সাইটের ব্লগ। এবার শুরু করুন পোস্ট করা। ওহ, কিভাবে পোস্ট করতে হবে এটা দেখার আগে চলুন দেখে নিই কিভাবে ক্যাটাগরি ক্রিয়েট করবেন- 

ড্যাশবোর্ডের সাইডবার থেকে “Posts” অপশনে কার্সার রাখলেই “Categories” অপশন দেখতে পাবেন। এখানে ক্লিক করে ক্যাটাগরি ক্রিয়েট করুন। 

আসুন এবার দেখে নিই কিভাবে পোস্ট করবেনঃ

ড্যাশবোর্ডের সাইডবার থেকে “Posts” অপশনে কার্সার রাখলেই “Add New” অপশনটি পাবেন। এখানে ক্লিক করুন। উপরের বক্সে পোস্টের টাইটেল এবং নিচে সম্পূর্ণ পোস্ট লিখে তারপর ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে নিন। চাইলে নতুন ক্যাটাগরিও এড করতে পারেন “Add New Cattegory” তে ক্লিক করে। 

কাস্টমাইজেশন

এই পর্বে ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশনের কিছু বেসিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। যা আপনার সাইটকে সবসময় আকর্ষণীয় লুক এনে দিয়ে সহায়ক হবে এবং সাইটের ফাংশনালিটিও বাড়াবে। 

টাইটেল এবং ট্যাগ লাইন পরিবর্তন করুন 

টাইটেলঃ

আপনার ওয়েবসাইটের টাইটেলটি আপনার ওয়েবসাইট কোন বিষয়ের উপর তা নির্দেশ করে। এছাড়াও সার্চ ইঞ্জিন আপনার সাইট খুঁজে পেতে এবং র‍্যাংকিং করতে টাইটেলের উপর বেশি গুরুত্ব দেয়। আপনার ডোমেইনের সাথে মিল রেখে একটা পারফেক্ট টাইটেল নির্বাচন করতে হবে। 

আপনার সাইটের প্রত্যেকটা পেজের জন্য ইউনিক এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজড টাইটেল নির্বাচন করা খুব জরুরী। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের সাইটের টাইটেল হল, “Bsocialtoday-Bsocial”। 

ট্যাগ লাইনঃ

প্রত্যেক পেজে টাইটেলের পর যে অংশটি থাকে সেটিই হল ট্যাগ লাইন। ট্যাগ-লাইন এক প্রকার স্লোগানের মতো। 

আসুন এবার দেখে নিই কিভাবে টাইটেল এবং ট্যাগ-লাইন পরিবর্তন করবেন- 

প্রথমেই আপনাকে ড্যাশবোর্ডের সাইডবার থেকে “Settings” অপশনের উপর মাউস কার্সার রাখতে হবে। তারপর আপনি “General” অপশনটি সিলেক্ট করবেন। নিচের স্ক্রিনশটটি খেয়াল করুন (এই পেজটি ওপেন হবে)- 

ওয়েবসাইটের ট্যাগ লাইন যেভাবে পরিবর্তন করা যায় তার সহজ উপায়

পোস্ট এবং পেজে কমেন্ট ডিজেবল করুন

অনেক ওয়েবসাইট (বিজনেস/অর্গানাইজেশন) চায় না ভিজিটররা তাদের পেজে কমেন্ট করুক। আপনিও যদি আপনার ওয়েবসাইটের পেজে কমেন্ট বন্ধ করতে চান তাহলে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন- 

>> নতুন পেজ খোলার সময় অথবা পেজ এডিট অপশনে গিয়ে ডান পাশে উপরে “Screen Options” এ ক্লিক করুন

>> এরপর “Discussion” বক্সে ক্লিক করুন। নিচে “Allow Comments” লেখা একটি বক্স দেখতে পাবেন

>> “Allow Comments” অপশনটি থেকে টিক চিহ্ন উঠিয়ে দিন

আপনার ওয়েবসাইটের সব পোস্ট এবং পেজে বাই ডিফল্ট কমেন্ট অপশন বন্ধ করতে চান?

বাই ডিফল্ট কমেন্ট বন্ধ করতে চাইলে প্রথমে আপনাকে ড্যাশবোর্ডের সাইডবার থেকে “Settings” এর উপর কার্সার রাখলেই “Discussion” নামে একটি অপশন পাবেন। এতে ক্লিক করলে নিচের স্ক্রিনশটের মতো একটি পেজ ওপেন হবে। “Allow people to post comments on new articles” থেকে টিক চিহ্ন উঠিয়ে দিন। কাজ শেষ, এখন আর ভিজিটররা আপনার সাইটে কোথাও কমেন্ট করতে পারবে না। 

ওয়েবসাইটের সব পোস্ট বাই ডিফল্ট কমেন্ট অপশন বন্ধ বন্ধ করবেন কিভাবে ?

“Static Front Page” তৈরি করুন 

অনেকেই এই অভিযোগ করেন যে, তাদের ওয়েবসাইটের হোমপেজে শুধুমাত্র কয়েকটা ব্লগ পোস্ট দেখাচ্ছে অর্থাৎ ডিজাইন ব্লগ সাইটের মত হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা ঠিক করতে আপনাকে “Static Front Page” ক্রিয়েট করতে হবে। নরমালি সাইটের হোমপেজে যেমন সর্বশেষ করা পোস্ট শো করে, Static পেজ ক্রিয়েট করলে এমন হয়না। আপনার Static পেজটি আপনি যেভাবে ডিজাইন করবেন আপনার হোমপেজ সেরকমই দেখাবে। 

আসুন এবার দেখে নিই কিভাবে “Static Front Page” পেজ ক্রিয়েট করবেনঃ

ড্যাশবোর্ডের সাইডবার থেকে “Settings” এর উপর কার্সার রাখলেই “Reading” নামে একটি অপশন পাবেন। প্রথমেই “Front page displays” থেকে “A static page (Select below)” অপশনটি  সিলেক্ট করে তারপর যে পেজটি হোমপেজে দেখাতে চান তা সিলেক্ট করে দিন। 

আপনি যদি “Static” পেজ সিলেক্ট করে না দেন তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস অটোমেটিকালি আপনার লেটেস্ট পোস্টগুলোকে হোমপেজে দেখাবে। 

“Static Front Page” পেজ ক্রিয়েট করার উপায়

সাইডবার এডিট করুন

বেশিরভাগ ওয়ার্ডপ্রেস থিমেই ডানপাশে সাইডবার থাকে। তবে কিছু কিছু বাম পাশে এমনকি উভয় পাশেও থাকে। অনেকেই তাদের ওয়েবসাইটে কোন সাইডবারই রাখে না।

আসুন এবার দেখে নিই কিভাবে আপনই সাইডবার সরাবেন বা এডিট করবেন- 

>> ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ডের সাইডবার থেকে “Appearance” থেকে “Widgets” অপশনটি সিলেক্ট করুন

>> এখানে আপনি সাইডবারে ব্যবহারের জন্য অনেকগুলো Widget পাবেন। ওখান থেকে আপনার পছন্দমতো Widget ড্রাগ এন্ড ড্রপ করে ব্যবহার করতে পারবেন

>> Widget এ আপনি চাইলে HTML কোডও ব্যবহার করতে পারেন “HTML box” এই Widget টি ব্যবহার করে

আপনার সাইটের আরও সুবিধা বাড়াতে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন ব্যবহার করতে পারেন। আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের কার্যকারিতা বাড়াতে প্লাগিনের বিকল্প নেই। বিভিন্ন প্লাগিন ব্যবহার করে আপনার সাইটে নতুন নতুন ফিচার এবং ফাংশনালিটি যুক্ত করতে পারেন। প্লাগিন ব্যবহার করে আপনার সাইটটিকে আপনি অনলাইন স্টোর, ফটো গ্যালারি, সোশ্যাল-প্লাটফর্ম ইত্যাদি বানিয়ে ফেলতে পারবেন। 

কিভাবে প্লাগিন ইন্সটল করবেন ?

ড্যাশবোর্ডের সাইডবার থেকে “Pluggin” অপশনের উপর মাউস কার্সার রাখলেই “Add New” অপশনটি দেখতে পাবেন। ওখানে ক্লিক করুন। 

ওয়ার্ডপ্রেসের প্লাগিন স্টোরে নানা রকমের ২৫০০০ এর অধিক প্লাগিন রয়েছে। আপনার সাইটের বিষয়ের উপর ভিত্তি করে আপনাকে শুধু সঠিক প্লাগিন সিলেক্ট করতে হবে। 

প্লাগিন ইন্সটল করাও খুব সহজ। আপনার প্রয়োজনমত প্লাগিন খুঁজে বের করে “Install” এ ক্লিক করে তারপর “Active” করে নিলেই কাজ শেষ। 

আপনার সময় বাঁচাতে ওয়েব মাস্টারদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা এবং প্রায় সব সাইটের জন্য দরকারি এমন কয়েকটা প্লাগিন নিয়ে আলোচনা করবো এখন।

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনঃ

কীভাবে ব্লগ থেকে আয় করবেন?

Contact Form 7ঃ এই প্লাগিনটি ব্যবহার করে আপনি ভিজিটরদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। এজন্য ভিজিটরকে আপনার সাইটে লগইন করার বা তার ইমেইল প্রোভাইডারে লগিন করার কোন প্রয়োজন পরবে না। 

Yoast SEO for WordPressঃ আপনার সাইটকে SEO ফ্রেন্ডলি করতে চাইলে এবং সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে র‍্যাংকিং বাড়াতে চাইলে এই প্লাগিনটি খুব সহায়ক। এই প্লাগিন ব্যবহার করে প্রত্যেকটা পেজ এবং পোস্টকে SEO ফ্রেন্ডলি করতে পারবেন। 

Google Analyticsঃ আপনি কি আপনার সাইটের ভিজিটরদের সংখ্যা, ধরণ, কোন ডিভাইস ব্যবহার করছে ইত্যাদি জানতে ইচ্ছুক? তাহলে ইন্সটল করে ফেলুন এই প্লাগিনটি। তারপর আপনার জিমেইল একাউন্টের সাথে কানেক্ট করে দিন। 

আপনি কি আপনার সাইটের ভিজিটরদের সংখ্যা, ধরণ, কোন ডিভাইস ব্যবহার করছে ইত্যাদি জানতে ইচ্ছুক? তাহলে ইন্সটল করে ফেলুন এই প্লাগিনটি। তারপর আপনার জিমেইল একাউন্টের সাথে কানেক্ট করে দিন। 

অভিনন্দন, তাহলে আপনি উপরোক্ত পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট লঞ্চ করার উপযুক্ত করে ফেলেছেন !

লেখক পরিচিতিঃ

Md.Arifur Rahman

Arifur Rahman, Digital Marketing Expert , SEO Expert , Digital Marketing Trainer, PPC Expert ,Social Media Specialist,Consultant, কিভাবে সহজে ওয়েবসাইট ইন্সটল করবেন

Digital Marketing Expert | SEO Expert | Digital Marketing Trainer |
PPC Expert | Social Media Specialist | Consultant

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Top