কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইনে আয় করবেন ?

এফিলিয়েট মার্কেটিং বিশ্বব্যাপী অনলাইনে আয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম

বর্তমানে এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে অনলাইনে টাকা উপার্জন করার সবচেয়ে সহজ উপায়। আপনি কি বিস্তারিত জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন।  

আমি গত ৫ বছর ধরে এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate marketing) করছি এবং সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছি।  আমি যখন শুরু করি তখন এটি ছিল অনেকটাই নতুন কন্সেপ্ট ।  কিন্তু এখন আমার মতো হাজারো মানুষ তা থেকে টাকা ইনকাম করছে।  

সূচি তালিকা (Table of Content):

  1. এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে ??
  2. এফিলিয়েট মার্কেটিং  কিভাবে শুরু করবেন 
  3.  সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ : Frequently asked questions)

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি ? কিভাবে কাজ করে ?

এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে অন্যের পণ্য বা প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিস প্রমোশন করে তা থেকে উপার্জনের প্রক্রিয়া।  ধরুন আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে এবং সেখানে অনেক ভিজিটর আসে , আপনি সেখানে অন্যের প্রোডাক্ট প্রমোশন করতে পারবেন এবং যখন সেই প্রমোশনের মাধ্যমে বিক্রি হবে, তখন  তা থেকে আপনি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পাবেন।  

এখনই ফ্রীল্যান্সিং শুরু করুন : এখানে ক্লিক করুন

নিচের ছবিতে এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের  জীবনচক্র (Life Cycle) সম্পর্কে ধারণা পাবেনঃ

এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সহজ ৪ টি ধাপ ?? 

  • বিভিন্ন কোম্পানির এফিলিয়েট  প্রোগ্রাম গুলোতে জয়েন করুন 
  • প্রোমোশনের জন্য ইউনিক প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বাছাই করুন
  • আপনার নেটওয়ার্কে ( ফেসবুক,ওয়েবসাইট,ব্লগ,ইউটিউব ) প্রমোশন করুন
  • যখন কোন ক্রেতা পণ্য কিনবে তারপর আপনি কমিশন পাবেন

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুনঃ  

চাকরি কিংবা ব্যবসার বাইরে অনলাইনে আয়ের উপায় !

সহজ কথায়ঃ

অনেক  কোম্পানি আছে যারা জামা জুতা , ওয়েব হোস্টিং ইত্যাদি অনলাইনে বিক্রি করে এবং তারা এফিলিয়েট প্রোগ্রাম অফার করেন। 

আপনি সেসব প্রোগ্রামে জয়েন করলে তারা আপনাকে ইউনিক ট্রেকিং আইডি দিবে।  যখনি আপনি এদের প্রোডাক্ট নিয়ে লিখবেন সে ট্রেকিং আইডি বসিয়ে দিবেন।  আর সে ট্রেকিং আইডি ক্লিক করে রিডার যখন কিছু কিনবে আপনি তখন সেখান থেকে কমিশন পাবেন।  

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে  শুরু করবেন ??

  • আপনি নিজের একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট বানিয়ে প্রোডাক্ট প্রমোশন করতে পারেন  
  • ফেসবুকে ট্র্যাফিক জেনারেট করেও করতে পারেন (সব কোম্পানি এটি গ্রহণ করে না)  
  • YouTube channel  এর মাধ্যমে সেখানে প্রমোশন করতে পারেন  
  • পডকাস্টিংয়ের মাধ্যমেও করতে পারেন
এফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate marketing) করে আপনি প্রতি মাসে লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারবেন যানির্ভর করবে আপনার দক্ষতার উপর
নিন্মলিখিত উপায়ে আপনি ব্লগের মাধ্যমে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেনঃ
  • প্রথমে আপনাকে একটি ইন্ডাস্ট্রি সিলেক্ট করতে হবে এবং একটি নিশ (NICHE ) বেঁচে নিতে হবে 
  • প্রোডাক্ট বাছাই করে নিন, যা আপনি প্রমোট করতে চান 
  • সে প্রোডাক্ট গুলো নিয়ে কনটেন্ট বানান 
  • আপনার ওয়েব সাইটে ট্র্যাফিক আনার চেষ্টা করুন
  • ইমেইল মার্কেটিং করুন, প্রয়োজনে AWEBER  টুলস ব্যবহার করতে পারেন।  
  • ইমেইল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা (sequence) রাখুন 
  • একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করুন এবং কিভাবে বেশি ভিজিটর আনা যায় সেদিকে ফোকাস করুন  

ব্লগিং কেন এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় তার কারণ এটিতে আপনার সবচেয়ে কম ইনভেস্টমেন্ট করতে হবে কিন্তু আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন।  

এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কিছু কমন বিষয়ঃ 

এফিলিয়েট  কি :  আপনার মতো যারা প্রোডাক্ট প্রমোশন করতে চায় এবং যারা এফিলিয়েট করতে চায় তার সমন্বয় ।  

এফিলিয়েট মার্কেট প্লেসঃ অনেক ধরণের মার্কেট প্লেস আছে যারা সেন্ট্রাল ডাটা বেস হিসাবে কাজ করে যেমন : Sharesale , cj and click Bank, এছাড়াও আমাজন এফিলিয়েট আছে যা সর্বাধিক পরিচিত।

এফিলিয়াট সফটওয়্যারঃ সাধারণত কোম্পানি গুলো তাদের লিংক ছোট করার জন্য এই ধরণের সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকে।  যেমন : FirstPromoter.

এফিলিয়েট লিংকঃ কোম্পানি  গুলো বিজ্ঞাপন দাতাদের পারফরম্যান্স চেক করার জন্য আলাদা যেসব লিংক দিয়ে থাকে।  

এফিলিয়াট আইডিঃ এটি অনেকটা এফিলিয়াট লিংকের মতোই , কোম্পানি গুলো মাঝে মাঝে আলাদা আইডি দিয়ে থাকে ট্র্যাক করার জন্য যা আপনি ওয়েবসাইট পেজে এড করে দিতে পারেন।  

পেমেন্ট মাধ্যম (Payment Mode): একেক ধরণের কোম্পানি একেক ধরণের পেমেন্ট মাধ্যম অফার করে। যেমনঃ Cheque, wire transfer, PayPal etc . 

এফিলিয়াট ম্যানেজারঃ আপনাকে সাহায্য করার জন্য কোম্পনি গুলো এখন Affiliate Manager/OPM নিয়োগ দিয়ে থাকে।  

কমিশনের পরিমাণ (Commission percentage/amount): সেটি প্রোডাক্ট ভেদে কম বেশি হয়  এবং কমিশন হিসেবে আপনি যা পাবেন সেটিই আপনার ইনকাম ।

টু-টাইয়ের এফিলিয়েট মার্কেটিং (Two-Tier Affiliate Marketing):

 এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে টাকা ইনকাম করার এটি একটি ভালো উপায়, এই পদ্ধতিতে আপনি অন্যদের এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আহবান করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন।  

ল্যান্ডিং পেজ (Landing pages): প্রত্যেকটি প্রোডাক্টের জন্য আপনি ইউনিক ল্যান্ডিং পেজ করে টাকা আয় করতে পারেন।  আলাদা ল্যান্ডিং পেজ হলে কাস্টমারদের গ্রহণ যোগ্যতা বাড়ে।  

কাস্টম অনুমোদিত এফিলিয়েট ইনকাম (Custom affiliate income/account):

সাধারণত বেশির ভাগ এফিলিয়েট কোম্পানি কাস্টম লিংক অফার করে থাকে মানে আপনি চাইলে আপনার মতো করে লিংক বানিয়ে নিতে পারবেন।  

লিঙ্ক ক্লকিং (Link clocking): বেশির ভাগ এফিলিয়েট লিংক গুলো অনেক বড় হয়ে থাকে।  এদের Link clocking পদ্ধতিতে ছোট করতে হবে। এজন্য URL Shortener ,Thirsty Affiliates এই সব টুলস বা প্লাগিংস  গুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।  

কাস্টম কুপন (Custom coupons): কিছু কিছু এফিলিয়েট কোম্পনি কাস্টম ডিসকাউন্ট কোড দিয়ে থাকে তা থেকে আপনি আপনার যায় বাড়াতে পারেন।  

আরেকটি  গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়  হলো  Cookies Policy  সাধারণত কোম্পানি ভেদে ৩০-১৫০ পর্যন্ত হয়ে থাকে।  তবে সব কোম্পানির নিজস্ব কিছু শর্তাবলী (Terms and conditions) থাকে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং ব্যাপারে কিছু সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ : Frequently asked questions)

প্রশ্নঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আমি মাসে কত টাকা ইনকাম করতে পারবো ??

উত্তরঃ আমি বলবো, কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই , আপনি যত ইচ্ছা আয় করতে পারেন।  আমি এমনও মানুষ কে চিনি যারা মাসে $৩০০০০ যায় করে থাকেন।  এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনার দক্ষতার উপর।  

প্রশ্নঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং জন্য কি ওয়েবসাইট থাকতেই হবে ??

উত্তরঃ না , তবে ওয়েবসাইট দিয়ে মার্কেটিং করা সবচেয়ে সহজ এবং  খরচ তুলনামূলক  অনেক কম।  কিন্তু আমার মতে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ব্লগ বা ওয়েবসাইট দিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং করা।  

প্রশ্নঃ এফিলিয়েট প্রোগ্রামে  জয়েন করতে কি টাকা লাগে ???

উত্তরঃ একদম না , কিন্তু আপনার মার্কেটিংয়ের জন্য টাকা লাগতে পারে।  যেমনঃ আপনি যদি পিপিসি(PPC: Pay Per Click) মার্কেটিং করতে চান , ইমেইল মার্কেটিং করতে চান সেক্ষেত্রে টাকা লাগবে।  

প্রশ্নঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য কি কোন কোয়ালিফিকেশন লাগে ??

উত্তরঃ তেমন কোন কোয়ালিফিকেশনের প্রয়োজন নেই, তবে যদি আপনার কপি রাইটিং স্কিল ,মার্কেটিং স্কিল থাকে তাহলে সেটি আপনার ভালো কাজে লাগবে।  

প্রশ্নঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং কি অবৈধ কিংবা ক্ষতিকর ??

উত্তরঃ না , এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পূর্ণ বৈধ তবে আপনাকে ওয়েবসাইটে Affiliate Disclosure দিয়ে দিতে হবে।

লেখক পরিচিতিঃ

Md.Arifur Rahman

Arifur Rahman, Digital Marketing Expert , SEO Expert , Digital Marketing Trainer, PPC Expert ,Social Media Specialist,Consultant, এফিলিয়েট মার্কেটিং

Digital Marketing Expert | SEO Expert | Digital Marketing Trainer |
PPC Expert | Social Media Specialist | Consultant

ভালো লাগলে শেয়ার করুন